রানে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। শো করেছেন নিজের বোলিং কারিশমা। ব্যাট হাতে ৪২ রান সাথে ৩ উইকেট। ইমার্জিং এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে সৌম্য দেখিয়েছেন দলে ফেরার রাইট ট্র্যাকেই তিনি আছেন।
তবে হতাশ করেছেন নাঈম শেখ। রান যেন তার ব্যাট থেকে উধাও হয়ে গেছে। প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার দেয়া ৩৪৯ রানের বিপরীতে ৩০১ রানে থামা বাংলাদেশ ম্যাচ হারলেও পেয়েছে অনেক কিছুই।
ম্যাচ শেষ। জয়, নাঈম, জাকিররা যখন একে একে ড্রসিংরুমে ঢুকছেন তখন সৌম্যর সাথে ছবি তোলার আবদার শ্রীলংকান ভক্তের। কাউকে চিনুক না চিনুক, দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও সৌম্যকে ঠিকই খুঁজে নেয় ফ্যানরা। মনে করিয়ে দেন তার কাছে চাওয়া পাওয়ার এখনও অনেক কিছু বাকি।
এশিয়া কাপ দিয়ে আবারও দুই বছর পর জাতীয় দলে সৌম্যকে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টায় বিসিবি। সে লক্ষ্যে ইমার্জিং এশিয়া কাপে টাইগার ব্যাটার মাঠের অনুশীলন এবং মানসিক রিলাক্সেশন- সব উপায়েই নিজেকে প্রস্তুত করছেন। হাথুরুসিংহের প্রেসক্রিপশনে দলের সাইকোলজিস্টও সৌম্যর সাথে কাজ করছেন নিবিড়ভাবে।
শুধু ২০১৫ বিশ্বকাপ না, ওই বছরটা সৌম্যর ক্যারিয়ারে ছিল সোনায় মোড়া। ১৫ ম্যাচে ৬৭২ রান, একটা সেঞ্চুরি, চারটা ফিফটি, গড় ৫১.৬৯। ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐ বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সৌম্য সরকার। কিন্তু সেই দাপুটে সৌম্য পরের দুই বছর হঠাৎ হারিয়ে গেলেন। ১৬ ম্যাচে গড় নেমে দাঁড়ালো ১৯ এ।
জাতীয় দলে ফর্ম নেই, ঘরোয়া ক্রিকেটেও নজর কাড়তে পারেন নি। সবার কাছে সৌম্য যখন বাতিলের খাতায় তখন হাথুরুসিংহে এসেই ডেকে নিয়েছেন তার পুরনো শিষ্যকে। ইমার্জিং এশিয়া কাপ বলা যায় সৌম্যকে হাথুরুর উপহার, নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার।
ইমার্জিং এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে ৪৮ রানে হারলেও সৌম্য নিজের লড়াইয়ে ঠিকই জিতেছেন। প্রথমে ৫ ওভার বল করে তুলে নিয়েছেন তিন উইকেট, ফিরিয়েছেন আভিষ্কা ফার্নান্দো, আশেন বান্দারা ও দুনিথকে। তিনজনেই শ্রীলংকান ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ার। অন্যদিকে ছয় নম্বরে নেমে ৪৬ বলে করেছেন ৪২ রান। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে বাউন্ডারি ছয়টা।
সৌম্যর পাশাপাশি এদিন আরেকজনের খোজে ছিল ক্যামেরার লেন্স। তিনি নাঈম শেখ। তবে ম্যাচ শেষে তাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। মুখ লুকোনোর কারণ অবশ্য আছে। ওপেনিংয়ে জুনিয়র তানজিদ তামিম যেখানে পিটিয়ে ফিফটি তুলে নিয়েছেন সেখানে এই সিনিয়র ব্যাটার বল নষ্ট করেছেন সমানে। ২৫ বলে ২২ রান। ডটই দিয়েছেন ১৬টা। বিশ্বকাপ স্কোয়াড তো দূর, এ-দলের স্কোয়াডেও নাইমের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় সহজে।
ম্যাচ হারলেও ব্যক্তিগত পারফর্ম্যান্সে টেন অন টেন সাইফ হাসান। ক্যাপ্টেন্সি প্লাস চার নম্বরে নেমে ৪৬ বলে ৫৩ রান। সাইফ কিন্তু তার ওয়ানডে ডেব্যুর দাবিটা ঠিকই জানিয়ে রাখলেন।
একাত্তর/জো
