ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৮ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী লিমিটেড। আবাহনীর এটি হ্যাটট্রিক শিরোপা এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে চতুর্থ। আবাহনীর জয়ের নায়ক সাইফ উদ্দিন ব্যাট হাতে ১৩ বলে ২১ রানের পর এই অলরাউন্ডার ৩৬ রানে নেন ৪ উইকেট।
প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর বিজয় উল্লাস চিরাচরিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাইম ব্যাংককে ৮ রানে হারিয়ে দলটি হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন। তবে, শনিবারের আনন্দ উদযাপনটা একটু ভিন্ন। সাইফউদ্দিন স্টাইলে বিজয় উৎসবে মেতে উঠে গোটা দল। কারণ এবারের জয়টি ছিলো অনেক বেশি কঠিন চ্যালেঞ্জের।
জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে প্রাইম ব্যাংকের দরকার ছিলো ৩২ রান, হাতে রয়েছে দুই উইকেট। সেখানে ১৯তম ওভারে ১৬ রান নিয়ে ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেন অলক কাপালি। কিন্তু শেষ ওভারে আবারো যখন দরকার ১৬, তখন শহিদুলের টানা তিনটা বল ডট। এবার ব্যর্থ কাপালি, শহিদুল ত্রাতা হলেন আবাহনীর।
তবে শেষ দৃশ্যের এই রোমাঞ্চের ছিঁটেফোঁটাও ছিলো না পুরো ম্যাচ জুড়ে। দুই দলই যেন ছিলো ব্যাটিং ব্যর্থতার মিছিলে। শুরুতে আবাহনীর টপ অর্ডার ফিরে গেছে ৩১ রানে। মাঝে অবশ্য ক্যাপ্টেন নক, নাজুমুল শান্তকে নিয়ে ইনিংসটা গড়ে দেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক সৈকত। ৩৯ বলে তার ৪০ রান দলের বিপদ কাটিয়েছেন, আস্থা বাড়িয়েছেন।
অন্যপ্রান্তে শান্তর অশান্ত ব্যাটিং রানের চাকা ঘুড়িয়েছে দ্রুত। কপাল খারাপ, ফিরে গেছেন যখন তখন তিনি ফিফটি থেকে পাঁচ রান দুরে। মূলত আবাহনীর ইনিংসটা গড়ে দিয়েছিলেন ওরা দুজনই। ফাইনালের স্নায়ুযুদ্ধ জিতে ৭০ রান আসে ওদের জুটিতে।
মাঝারি টার্গেটে তেমন কোন জুটি'ই হলো না প্রাইম ব্যাংকের। দলটির গল্প বলতে গেলে কেবল আউটের দৃশ্যই ভাসে। আসা যাওয়াতেই ব্যস্ত ছিলেন ব্যাটসম্যানরা। এক রুবেল মিয়া ছাড়া ওদের টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর ১৩। বোঝাই যাচ্ছে গোড়ায় গলদ হয়ে গেছে। উইকেট হারালেও রুবেল মিয়ার ব্যাটে রান ঠিকই উঠেছে। ৪৩ বলে ৪১ রানে থেমেছে তার নিঃসঙ্গ লড়াই।
আর শেষের গল্পেতো সুখের ইতি টানতে পারেননি অলক কাপালি। প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জেতার ছয় বছরের আক্ষেপটা রয়েই গেলো প্রাইম ব্যাংকের। আর দমে না যাওয়া আবাহনীর শোভা বাড়িয়েছে আরো একটা ট্রফি।
একাত্তর/ এনএ
