শ্রীলঙ্কার স্পিন-সহায়ক উইকেটে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রকে ৩২ রানে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’-র পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে এসেছে বাবর আজমের দল। শাদাব খানের অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং সাহিবজাদা ফারহানের বিধ্বংসী ফিফটিতে ভর করে পাকিস্তান ১৯০ রানের বড় পুঁজি গড়ে, যা রান তাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল পাকিস্তান। সাইম আইয়ুব দ্রুত ফিরলেও অন্য প্রান্তে সাহিবজাদা ফারহান ছিলেন রীতিমতো রুদ্রমূর্তি। মাত্র ২৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ফারহান খেলেন ৪১ বলে ৭৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে বাবর আজমের সাথে তিনি ৮১ রানের জুটি গড়েন। বাবর শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও পরে হাত খোলেন এবং ৩২ বলে ৪৬ রান করে আউট হন।
মাঝপথে পাকিস্তান কিছুটা খেই হারালেও ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে শাদাব খান মাত্র ১২ বলে ৩০ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডলি ফন শ্যালকউইক ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের রানের গতি টেনে ধরার চেষ্টা করেন। ফলে শেষ ১০ বলে ৫টি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস ১৯০ রানেই থামে।
১৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের শুরুটা মন্দ ছিল না। পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত শায়ান জাহাঙ্গীর ৩৪ বলে ৪৯ রান করে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই পাকিস্তানের স্পিনাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ৫ জন স্পিনারের সম্মিলিত বোলিংয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা। উসমান তারিক তার অভিষেক আইসিসি ম্যাচে ২৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন এবং শাদাব খান ২৬ রানে নেন ২ উইকেট।
শেষদিকে শুভম রঞ্জনে আহত অবস্থায় বীরত্বপূর্ণ লড়াই চালিয়ে ২৮ বলে ৫১ রান করলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তুলতে সক্ষম হয় যুক্তরাষ্ট্র।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তান। আগামী রোববার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ভারত।
বাংলাদেশের ‘সম্মান’ ফেরাতেই ভারত ম্যাচ বয়কটের হুমকি: মহসিন নাকভি