বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিলো মারকুটে ব্যাটার বাবর আজমকেই আবারও পাকিস্তানে ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে ফেরানোর তোড়জোড় চলছে। শেষ পর্যন্ত সেই গুজবই সত্যি হলো। মোহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ক্রিকেটে বোর্ড তাকে আবার দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি ফরমেট থেকেই নেতৃত্ব ছেড়ে দের বাবর আজম। তারপর টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কের দায়িতত্ব দেয়া হলো পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। আর পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বানানো হয় শান মাসুদকে।
পাঁচ মাস যেতে না যেতেই আবারও পাকিস্তান ক্রিকেট দলে পরিবর্তনের ঘোষণা। রোববারই পিসিবি জানায়, বাবর আজমকে ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে আবারও ফেরানোর কথা। জানিয়েছে, পাকিস্তানের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি। পিসিবি জানায়, এই সিদ্ধান্তে একযোগ সায় দিয়েছে বোর্ডের সবাই।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সামাজিক মাধ্যমে জানায়, নির্বাচক কমিটির সর্বসম্মত পরামর্শে বাবর আজমকে সাদা বলের ক্রিকেটে পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। আর, শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফলে বাবরের নেতৃত্বেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে পাকিস্তান। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে টিকে গেছেন মাসুদ। এতে করে শাহিন শাহ আফ্রিদির টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ হলো এক সিরিজেই। এমনটা যে ঘটতে যাচ্ছে, তা বোঝা গিয়েছিলো বেশ কিছু দিন আগে থেকেই।
নভেম্বরে আফ্রিদির নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারে পাকিস্তান দল। পাকিস্তান সুপার লিগে আফ্রিদির নেতৃত্বেই চরমভাবে ব্যর্থ হয় লাহোর কালান্দার্স। এর মধ্যে বোর্ডেও বড় পালাবদল ঘটে যায়। দায়িত্বে আসেন মহসিন নাকভি। ফলে কপাল খুলে যায় বাবর আজমে।

পাকিস্তান ক্রিকেটের এক্স হ্যান্ডেলে রোববার সকালে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে বাবর আজমের সঙ্গে কথা বলছেন পিসিবি প্রধান। ক্যাপশনে লেখা হয়, বাবরকে সাদা বলের অধিনায়ক করা হল। নির্বাচক কমিটির সুপারিশ মেনে বাবর আজমকে ওডিআই ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করা হলো।
১৮ এপ্রিল থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে। তার আগেই নেতৃত্বে রদবদল আনলো পিসিবি। হোয়াইট বলের ক্রিকেটে বাবর নেতৃত্বে ফেরায় এক সিরিজ শেষেই টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব অধ্যায় শেষ হলো শাহিন শাহ আফ্রিদির। এ ছাড়া ওয়ানডের নেতৃত্ব হারালেন শান মাসুদ।
২০১৯ সালে সাদা বলের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন বাবর আজম। এ ছাড়া ২০২১ সালে টেস্টের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয় তাকে। অবশ্য তার নেতৃত্বে এখনো শিরোপা জিততে পারেনি পাকিস্তান। যদিও র্যাঙ্কিংয়ে বেশ কবারই দাপট দেখিয়েছে তারা। বাবরের নেতৃত্বে ৪২ ম্যাচে জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের হার ২৩ ম্যাচে।
বাবর আজম পাকিস্তানের নেতৃত্ব ছাড়ার পরে পাকিস্তান সাকুল্যে আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামে। তারা ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়। পরে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায়। অর্থাৎ, এই ৮টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখে পাকিস্তান।
