সোমবারের প্রথম প্রহর থেকে গোটা বিশ্বের লাখো কোটি ফুটবলপ্রেমীরা দারুণ এক সময় কাটিয়েছে। মাত্র সাত ঘন্টার ব্যবধানে বিশ্ব ফুটবলের দুই অক্ষশক্তি ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার সেরা হবার লড়াইয়ে মেতে ছিলেন সারাবিশ্বের মানুষ। তাদের রাত জাগা সার্থক হয়েছে রুদ্ধশ্বাস ও রোমাঞ্চকর দুই ফাইনালে।
জার্মানির বার্লিনে ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড চতুর্থবার শিরোপা জেতে স্পেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এখন অপেক্ষা এই দুই সেরা দলের লড়াই দেখার, যা পরিচিত ফাইনালিসিমা হিসাবে।
ইউরো কাপ জয়ী স্পেন এবং কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনার মধ্যে হবে সেই ম্যাচ। তবে এই বছর নয়, ফাইনালিসিমা হবে পরের বছর। দুই মহাদেশের দুই শিরোপাজয়ী দলের এই মহারণকে নাম দেওয়া হয়েছে ফিনাইনালিসিমা। যার মূল অর্থ গ্র্যান্ড ফাইনাল। অথাৎ, মহা ফাইনাল।

ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো জানাচ্ছেন, আগামী বছর ফাইনালিসিমা মাঠে গড়াবে। একাধিক বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তথ্যটি এসেছে। এসবে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আবারো দেখা যাবে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব জেতা স্পেনের মহারণ।
১৯৮৫ সালে প্রথমবার ফাইনালিসিমা হয়েছিল। সেবার ফ্রান্স এবং উরুগুয়ে খেলেছিল সেই ম্যাচ। যে ম্যাচে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল ফ্রান্স। পরের ফাইনালিসিমা ১৯৯৩ সালে। সেই বছর আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে হারিয়েছিলো ডেনমার্ককে। তারপর থেকে বন্ধই ছিলো এই প্রতিযোগিতা।
কিন্তু ক্রমেই এই ফাইনালিসিমার জন্য চাপ বাড়তে থাকলে ২০২২ সালে আবার শুরু হয় মহারণ। ইতিলি ও আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচ খেলেছিল। যে ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ, এরিই মধ্যে দু’বার ফিনালিসিমা জিতে নিয়েছে মেসির দেশ। তৃতীয় বার সেই ট্রফি জয়ের সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে জুন অথবা জুলাইয়ে পরবর্তী সংস্করণ মাঠে গড়াবে। কনমেবল এবং উয়েফার মধ্যে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত একটি চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিলো। চুক্তি অনুযায়ী এ সময়ের ভেতর লাতিন ও ইউরোর সেরা দু’দল খেলবে ফাইনালিসিমা।

আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আশা করছেন পরের বছর ফাইনালিসিমা খেলবেন মেসি। তা হলে স্পেনের লামিনে ইয়ামাল সুযোগ পাবেন তাঁর গুরুর বিরুদ্ধে খেলার। ইউরো কাপের ফাইনাল খেলতে নামার আগে স্পেনের তরুণ ফুটবলার বলেছিলেন, আশা করবো মেসি কোপা আমেরিকা জিতবে। আর আমরা ইউরো কাপ। তা হলে ফাইনালিসিমা মেসির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাব।
এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের ভেন্যু চূড়ান্ত না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ সদ্য শেষ হওয়া কোপার স্বাগতিক দেশটি ২০২৬ সালে যৌথভাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক। তবে মাদ্রিদ, বার্লিন ও ওয়েম্বলিতে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কোপায় ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনার জয়