বাংলাদেশকে বাদ দেয়ায় ঘটনায় ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ভারত সফরে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করার পরপরই নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ভারতের প্রতি ‘দ্বিমুখী নীতি’ অবলম্বনের অভিযোগ তোলেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া আচরণকে ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করেন।
নাকভি বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে আমাদের অবস্থান নির্ভর করবে পাকিস্তান সরকারের নির্দেশনার ওপর। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরলে আমি আপনাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা সরকারের নির্দেশ মানি, আইসিসির নয়।
গত এক সপ্তাহ ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেয়ার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। গত সপ্তাহে আইসিসির সভায় পিসিবিই ছিল একমাত্র বোর্ড যারা বিসিবির অবস্থানকে সমর্থন করেছিল।
টুর্নামেন্টটি যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতে নির্ধারিত ছিল। গত তিন জানুয়ারি বিসিসিআই’র নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভারতে তাদের জন্য খেলা আর নিরাপদ নয়।
যদিও সেই নির্দেশের কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি, তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অবনতিশীল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এটি ঘটেছিল। ৪ জানুয়ারি বিসিবি সরকারের সাথে আলোচনার পর আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারত যাবে না। আইসিসির সঙ্গে পরবর্তী আলোচনাগুলোতেও বিসিবি তাদের এই অবস্থানে অনড় ছিল।
আইসিসি বারবার বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের আসরে অংশ নিতে সময়সীমা বেধে দিয়ে জানায়, হয় বর্তমান সূচি মেনে নিতে হবে, নয়তো টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হতে হবে। শনিবার বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অটল থাকায় আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে থাকছে না এবং তাদের বদলে স্কটল্যান্ড অংশ নেবে।
নাকভি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে একে বাংলাদেশের প্রতি অবিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের ওপর অন্যায় করা হয়েছে। আপনি দ্বিমুখী নীতি বজায় রাখতে পারেন না। আপনি এক দেশের (ভারত) জন্য এক নিয়ম রাখতে পারেন না যে, তারা যা খুশি করবে, আর অন্য দেশকে সম্পূর্ণ বিপরীত কিছু করতে বাধ্য করবেন। এ কারণেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি এবং স্পষ্ট করে বলেছি, বাংলাদেশের সাথে অবিচার হয়েছে। তাদের বিশ্বকাপে খেলা উচিত, তারা ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান অংশীজন।
যদিও স্থানীয় কিছু অসমর্থিত সংবাদে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে, তবে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে পিসিবি তা নিশ্চিত করেনি। শনিবার গণমাধ্যমের সামনে নাকভির এই বক্তব্যই ছিল পিসিব-র পক্ষ থেকে প্রথম সরাসরি মন্তব্য, যেখানে তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন যে সিদ্ধান্তটি এখন আর পিসিবির হাতে নেই।
নাকভি আরও যোগ করেন, সরকার যদি আমাদের খেলতে নিষেধ করে, তবে হয়তো আইসিসি (স্কটল্যান্ডের পর) ২২তম কোনো দলকে নিয়ে আসবে। এটি সম্পূর্ণ সরকারের ওপর নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে বিসিসিআই ও আইসিসির মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির ফলে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা।
বিসিবির বিরুদ্ধে কী আরও কঠোর হচ্ছে আইসিসি?