কেন দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই প্রস্তুতি সারে বাংলাদেশ

আপডেট : ১১ মে ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম

এখন নিয়ম হয়ে গেছে এমন, যেকোনো ফরম্যাটের বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দল কিংবা দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে আবার হোম কন্ডিশনের ষোলো আনা ফায়দা নিয়ে সিরিজ জিততে চায় টাইগার ম্যানেজমেন্ট। তাতে লাভের লাভ কী হয় তা তো বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের অবস্থানই বলে দেয়। প্রতিবারই এমন গোলমেলে ব্যবস্থাপনা টাইগার ক্রিকেটে বড় কিছু জয়ের স্বপ্ন দিনে দিনে ফিকে করে দিচ্ছে।

জিততে কার না ভালো লাগে, বড় দলের বিপক্ষে জয়ের এমন সব স্মৃতি রোমন্থন করেই তো কাটে ব্যর্থতার সময়কালে দিন-মাস-বছরগুলো। কিন্তু কিছু জয় যে আগামীর পথটা অমসৃণ করে দেয় সে খেয়াল থাকে ক’জনার?

তাই তো হয় যায় ভুল, আর তার সবচেয়ে চড়া মাশুল বাংলাদেশকে দিতে বিশ্বকাপের মতো আসরে। আরো হতাশার বিষয়, এই একই ভুল হয় বারবার। কয়েকটা কেসস্টাডি দিয়ে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা যায়।

কেস নম্বর এক, সামনেই ছিল ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে মাসখানেকের ব্যবধানে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে মিরপুরের মাঠে ডেকে এনে ঘায়েল করার পরিকল্পনা আটে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয় পায় টাইগাররা। তবে সেই ফলাফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে মিরপুরের উইকেটের মান, যেটা ছিল আধুনিক টি-টোয়েন্টির সাথে একদম বেমানান।

সেই লড়াইয়ে ওভারপ্রতি সর্বোচ্চ গড় রান ছিল সাড়ে ছয়েরও নিচে। সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর বাংলাদেশের, তবে সেটা ৭ উইকেটে মাত্র ১৩১। 

আইসিসির উইকেটে রানের ফোয়ারা ছুটবে সেটা মনে করিয়ে দিয়ে বিসিবির উইকেট চয়েসের তুমুল সমালোচনা সেই সময় হয়েছিল বটে, কিন্তু তাতেও কানে পানি ঢোকে না বোর্ডের। পরের মাসেই যে নিউজিল্যান্ড আসে, তাদের ক্ষেত্রেও একই পলিসির কোলে হলো ঠাঁই, টাইগাররা যেকোনো মূল্যে জিততে চায়।

সেটাও পাঁচ ম্যাচের সিরিজ, যেখানে যেখানে আগেরটার চেয়ে একটা বেশি হার বাংলাদেশের। তবে একই মাঠে বাকি সব একই ছকে সাজানো। 

একটা ম্যাচে ওভারপ্রতি গড় রান কেবল সাত ছুঁই ছুঁই হয়েছে। আবার একই সিরিজে সেটা নেমে গেছে চারেরও নিচে। গামিনির উইকেটের এমনই কারিশমা, হোম টিমের যে ব্যাটার কিশোর বয়স থেকে এই মাঠে খেলেছে, তার পক্ষেও বোঝা মুশকিল আন-ইভেন বাউন্সগুলো। তবে হায়েস্ট টিম টোটাল ১৬১ এবং সেটা ছিল ব্ল্যাক ক্যাপদের।

বিশ্বকাপের এমন প্রস্তুতির ফলাফল কী হয়েছিল সেটা তো জানাই। প্রথম রাউন্ডে স্কটল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে লজ্জার হার। খোঁড়াতে খোঁড়াতে সুপার টুয়েলভ আর সেখান থেকেই সবার আগে বিদায়। অথচ যে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে মিরপুরে ডেকে নাকানি চুবানি খাইয়েছিল টাইগাররা, তারাই খেলে ফাইনাল।

পরের কেসস্টাডিতেও নিউজিল্যান্ডের নাম আসবে, তবে এবার ফরম্যাটটা ওয়ানডে, যেখানে বাংলাদেশের দখল সবচেয়ে বেশি। আর ঘরের মাঠ হলে তো কথাই নেই। রণক্ষেত্র সেই মিরপুরের মাঠ।

বিসিবির জ্ঞান না ফিরলেও ঠেকে শেখে নিউজিল্যান্ড। ভারতের আয়োজিত বিশ্বকাপ নাকের ডগায় থাকলেও তারা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় দ্বিতীয় সারির দল, যেটার নেতৃত্বে ছিলেন লকি ফার্গুসন। দলটার তৎকালীন হেডকোচ গ্যারি স্টিডও আসেননি। 

কিন্তু বাংলাদেশের তাতে বয়েই গেল। বাজে পিচ বানিয়ে শর্টকাটে ক্রিকেটে বড়লোক হওয়ার লোভে পেয়ে বসে কর্তাদের। তাছাড়া মওকা বুঝে ওদের হারানো যাবে, ঢেকে ফেলা যাবে আগের সব ব্যর্থতা, এসব ভেবেই দেয়া যাচ্ছিল শান্তির ঘুম। কিন্তু ঘুম ভেঙেই দেখা গেল একি! প্রথম ম্যাচটা পরিত্যক্ত আর পরের দুটোও জিতে নিলো কিউইরা। বাংলাদেশের সাধের প্রস্তুতি রূপ নিলো হোঁচটে। 

সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো। ৯ ম্যাচে মাত্র ২ জয়, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান ছাড়া সবার সাথে হার।

এরপরের কেস, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের চলমান পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজ জয়ের কাজটা হয়েছে সারা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টিতে চরম বাজে সময় কাটাচ্ছে তাদের বিপক্ষে মাসল পাওয়ার দেখানো কি কোনো কাজের কথা।

পিএইচডির ছাত্র শান্তদের যেন বসিয়ে দেয়া হয়েছে ফের মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে, সেখানে এপ্লাস আসছে দেখে আবার তালিও বাজানো হচ্ছে বটে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এমন তালি যে চোখের পলকেই গালিতে রূপ নিতে পারে। আর দর্শক থেকে ম্যানেজমেন্ট, কিংবা বোর্ড কর্তা সবাই যে কয়েক প্রস্থ কটু কথা শুনিয়ে দেবেন ওই ক্রিকেটারদের। গড়ির কাটা ঘুরবে, ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাবে, আবার একই নীল নকশা নিয়ে হাজির হবে ম্যানেজমেন্ট, বদলাবে না কিছুই।

একাত্তর/আরএ
উয়েফা নেশনস লিগের আসন্ন ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড ও ইসরাইল। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে এই ম্যাচকে ঘিরে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তা ফুটবল...
পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিততে ম্যাচের শেষ দিন ৩ উইকেট দরকার স্বাগতিক বাংলাদেশের। অন্যদিকে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান।  
ঢাকা টেস্ট জয়ের পর এবার সিলেট টেস্ট জয়ের হাতছানি। সিরিজের শেষ টেস্ট জিততে মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড গড়া ১৩৭ রানের ওপর ভর করে জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। 
পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করছে স্বাগতিকরা।
বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখার জন্য কতটা মরিয়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, তা মাঠের খেলা শুরু হওয়ার আগেই স্পষ্ট হয়ে গেল। আমেরিকার বিলাসবহুল কোনো রিসোর্টে ফুটবলাররা যাতে প্রমোদ...
বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার মিশন শুরু হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা শিবিরে মহাচিন্তার ভাঁজ! যুক্তরাষ্ট্রে দলটির প্রথম প্রাক-টুর্নামেন্ট অনুশীলন সেশনে বাকি সতীর্থদের সাথে নয়, বরং সম্পূর্ণ একা একা অনুশীলন...
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বাজিকরদের চোখে ফেভারিটের তালিকায় ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ফরাসি দেমাগি ফ্রান্স কিংবা হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডের চেয়ে...
চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আর যুদ্ধবিগ্রহের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে ইরান ফুটবল দল। আগামী শনিবার মেক্সিকোতে নিজেদের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে উড়াল...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর