রাজনীতি আর ক্রিকেটের এক নজিরবিহীন টানাপোড়েনের রেশ যখন এখনো কাটেনি, তখনই রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই মহারণে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে ভারতের জন্য এখন বড় প্রয়োজন মিডল-অর্ডারের স্থিতিশীলতা এবং ওপেনার অভিষেক শর্মার পূর্ণ ফিটনেস। অবশ্য মাঠের বাইরের তুমুল উত্তেজনা আর উন্মাদনাকে ছাপিয়ে দুদেশের ক্রিকেটাররাই এই ম্যাচকে ক্যালেন্ডারের আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতোই দেখার চেষ্টা করছেন।
খেলোয়াড়দের মনের প্রকৃত অবস্থা বোঝা দায় হলেও, পরাজয়ের পর ভক্তদের যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা এড়াতে দুই দলই মরিয়া থাকবে। তবে সফল হতে হলে তাদের বাইরের চাপ ভুলে মাঠের খেলার দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।

অভিষেক ও কুলদীপ কি খেলবেন?
ভারতের জন্য উদ্বেগের নাম অভিষেক শর্মা। পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হওয়ায় নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। অভিষেক যদি সুস্থ না হন, তবে ভারতের হাতে দুটি বিকল্প আছে- হয় সাঞ্জু স্যামসনকে ওপেনিংয়ে খেলানো, নয়তো সুস্থ হয়ে ওঠা ওয়াশিংটন সুন্দরকে দারুণ ফর্মে থাকা ঈশান কিশানের সঙ্গী করা। এছাড়া কলম্বোর মন্থর উইকেটে ওয়াশিংটনের অফ-স্পিন কার্যকরী হতে পারে। তবে, শেষ মুহূর্তে খবর এসেছে, অভিষেক খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট।
পিচের ধরন বিবেচনা করে ম্যানেজমেন্ট বাঁহাতি রিস্ট-স্পিনার কুলদীপ যাদবকেও একাদশে ফেরাতে পারে। তবে তাকে নিতে হলে রিঙ্কু সিংয়ের মতো কোনো ব্যাটারকে বাদ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। কুলদীপের অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানের জন্য বড় হুমকি হতে পারে, কারণ বাবর আজমের বিপক্ষে তাঁর রেকর্ড দুর্দান্ত। গত এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ৪ উইকেট নেয়ার স্মৃতি এখনো টাটকা।
মিডল-অর্ডারের নড়বড়ে অবস্থা
বিশ্বকাপের আগে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে এক অপরাজেয় শক্তির মতো মনে হচ্ছিল। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ম্যাচে দেখা গেছে এক নতুন সমস্যা, হঠাৎ করে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানো। মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারত, আবার নামিবিয়ার বিপক্ষেও শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়েছিল। অবশ্য সূর্যকুমার যাদব, ঈশান কিশান এবং হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভারত বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় এই ত্রুটিগুলো আড়ালে পড়ে গেছে। কিন্তু পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে জয় পেতে হলে কেবল ব্যক্তিগত ঝলকের ওপর নির্ভর না করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
পাকিস্তানের শক্তি ‘আনপ্রেডিক্টটেবল’
গত বছরের হাইব্রিড মডেল অনুযায়ী পাকিস্তান কলম্বোতেই অবস্থান করছে, যা তাদের এখানকার কন্ডিশন বুঝতে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। প্রেমাদাসার উইকেট স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য আর পাকিস্তানের হাতে আছে উসমান তারিক, সাইম আইয়ুব, আবরার আহমেদ, শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজের মতো পাঁচজন দক্ষ স্পিনার। এর মধ্যে উসমান তারিকের বিচিত্র বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের ব্যাটিং শক্তির সঙ্গে তারিকের এই লড়াই ম্যাচের এক আকর্ষণীয় অংশ হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যাটিংয়ে সাহেবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব এবং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ যে কোনো দিন প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে ফারহান গত এশিয়া কাপে জসপ্রীত বুমরাহকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলেছিলেন। তবে ভারত নেদারল্যান্ডস বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দল নয়; বুমরাহ থেকে বরুণ চক্রবর্তী, ভারতের আছে বিশ্বমানের বোলিং ইউনিট। এমনকি শিবম দুবেও বোলার হিসেবে এখন অনেক বেশি পরিণত।
কলম্বোর প্রেমাদাসায় বৃষ্টির শঙ্কা
শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে রোববার সন্ধ্যায় কলম্বোর খেত্তারামা এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ।
ভারত: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, সাঞ্জু স্যামসন, শিবম দুবে, ঈশান কিশান, হার্দিক পান্ডিয়া, আরশদীপ সিং, জসপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, রিঙ্কু সিং।
পাকিস্তান: সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, খাজা নাফে, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহেবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, শাহীন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান খান, উসমান তারিক।
