মিলানের রাজপথ এখন নীল-কালো উৎসবে মাতোয়ারা! পার্মাকে ২-০ গোলে হারিয়ে সিরি-এ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ইন্টার মিলান। সান সিরোতে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই পিয়াজ্জা দেল দুয়োমো কানায় কানায় ভরে ওঠে ইন্টার সমর্থকদের ভিড়ে। আতশবাজি আর নীল ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় ইতালির আকাশ; দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মিলল ২১তম ‘স্কুডেটো’ জয়ের স্বাদ।
গত মৌসুমের শেষ মুহূর্তের হৃদয়ভঙ্গ আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পিএসজি-র কাছে ৫-০ গোলের বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষত এখনও শুকায়নি। কিন্তু ইন্টারের এবারের জয় যেন সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয়ার মহৌষধ। লিগ শেষ হতে তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাপোলির চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে গিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে ইন্টার। নাপোলি শনিবার কোমোর সাথে গোলশূন্য ড্র করায় ইন্টারের কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল, আর রোববার পার্মাকে হারিয়ে তারা দাপটের সাথেই ট্রফিটা ছিনিয়ে নিল।

পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে ইন্টারের আধিপত্য থাকলেও গোল আসছিল না। ২৫ মিনিটে নিকোলো বারেল্লার একটি জোরালো শট বারে লেগে গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির পিঠে লেগে ফিরে আসলেও গোল মেলেনি। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সব স্তব্ধতা ভেঙে দেন মারকুস থুরাম। পিওতর জিলিনস্কির বাড়ানো নিখুঁত থ্রু বল থেকে বল জালে জড়িয়ে সান সিরোকে উন্মাতাল করে তোলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দ বজায় ছিল ইন্টারের। ফেদেরিকো ডিমার্কোর দারুণ এক ক্রস থেকে ডেনজেল ডামফ্রিস সুযোগ হাতছাড়া না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। অবশেষে ৮০ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের মাপা ক্রস থেকে আলতো টোকায় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন হেনরিখ এমখিতারিয়ান। এই গোলের সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় মিলানের নীল-কালো পাড়ার উৎসব।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লাউতারো মার্টিনেজ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতার একদম শেষ ধাপে গিয়ে যেভাবে হেরেছিলাম, সেখান থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। হয়তো অনেকে আমাদের ফেভারিট ভাবেনি, কিন্তু মাঠের ভেতর ও বাইরে আমরা জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছি।

মিলানের রাস্তায় সমর্থকদের চোখে ছিল আনন্দের জল। ফ্যাবিও নামের এক ইন্টার ভক্তের ভাষায়, যারা আমাদের অমঙ্গল চেয়েছিল তাদের মুখে ছাই দিয়ে আজ আমরা চ্যাম্পিয়ন। গত বছরের সেই দুঃসহ যন্ত্রণার পর এই শিরোপা আমাদের পাওনা ছিল।
ইন্টার মিলানের উৎসবের রেশ এখনই কাটছে না। আগামী ১৩ মে কোপা ইতালিয়া ফাইনালে লাজিওর মুখোমুখি হবে তারা। লিগ শিরোপা জেতার পর এখন লক্ষ্য হলো ‘ডোমেস্টিক ডাবল’ পূরণ করা। আপাতত মিলান শহর তার প্রিয় নীল-কালো বীরদের বরণ করে নিতে ব্যস্ত, যাদের হাত ধরে ২১তম বারের মতো ইতালির সিংহাসন উদ্ধার হলো।
