বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ঠিক এই মুহূর্তে মাঠের বাইরে চরম কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ল ইরান ও স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের মার্কিন ভিসা দেয়া হলেও, দলের মূল চালিকাশক্তি তথা গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ও সাপোর্টিং স্টাফদের ভিসা দেয়নি ওয়াশিংটন। আমেরিকার এমন ‘বৈষম্যমূলক’ আচরণের বিরুদ্ধে শনিবার তীব্র ক্ষোভ উগরেছে তেহরান।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গত ১৮ মে থেকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় রিসোর্ট শহর আনতালিয়াতে অনুশীলন ক্যাম্প করছিল ইরানি দল। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর শুক্রবার গভীর রাতে খেলোয়াড়দের ভিসা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন দূত টম বারাক। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় আঙ্কারার মার্কিন দূতাবাসের প্রশংসা করে তিনি জানান, ইরানি ফুটবলারদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
মার্কিন দূতের এই বার্তার পর শনিবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পোস্টের জবাবে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখে, আপনারা কেন এটা বলছেন না, দলের একটি বড় অংশের ম্যানেজার, নির্বাহী কর্মকর্তা, টেকনিক্যাল উপদেষ্টা এবং অন্যদের ভিসা দেওয়া হয়নি? অথচ তাঁরা যে কোনো ফুটবল দলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আপনারা ইরান জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত এবং বৈষম্যমূলক আচরণকে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, মার্কিন ভিসা না পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন স্বয়ং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ, ডিরেক্টর মেহদি খারাতি, ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হেদায়েত মোম্বিনি এবং মিডিয়া ডিরেক্টর মহসেন মোতামেদকিয়া।

মেক্সিকো যাত্রা ও ফিফার দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা: ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ভিসা না পাওয়া সত্ত্বেও এই স্টাফরা দলের সাথেই শনিবার তুরস্ক ছেড়ে মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং সেখান থেকেই মার্কিন ভিসা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর একটি কড়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। আমেরিকার এই আচরণকে ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইনের পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে তারা ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে নালিশ জানানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সরকার জাতীয় দলের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতামূলক আচরণ অব্যাহত রেখে এই সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের ফুটবল ফেডারেশন অবশ্যই ফিফার দ্বারস্থ হবে। একটি দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে ফিফার কর্তব্য হলো ইরান দলের এই ম্যানেজার, টেকনিক্যাল ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত করা, কারণ জাতীয় দলের জন্য এই মুহূর্তে তাঁদের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। তবে এই বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে এখনও কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
মেসি-ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর দিলেন স্কালোনি
অবশেষে বরফ গললো: মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা