২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউটের মঞ্চ এখন যেন আফ্রিকার জন্য এক বিষাদময় অধ্যায়। নয়টি আফ্রিকান দলের মধ্যে পাঁচটিরই ডানা ছেঁটে দিয়েছে টুর্নামেন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল, ডিআর কঙ্গো আর আলজেরিয়া, সবাই এখন বাড়ির পথ ধরেছে। একমাত্র মরক্কোই টিকিয়ে রেখেছে আফ্রিকার আশা। তবে ঘানা এবং মিশর কি পারবে এই ব্যর্থতার ধারা ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখতে?
ভোরে মায়ামিতে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। একদিকে ফুটবলের রাজপুত্র মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউটে ওঠা ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। ডেভিড বনাম গোলিয়াথের এই লড়াইকে কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তা দেখছেন 'জীবনের সেরা ম্যাচ' হিসেবে।
আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে তিনি জানালেন, আমরা এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতেই এসেছি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অন্যদিকে, নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনিও আরও বিনয়ী। প্রতিপক্ষকে সমীহ করে তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, কেপ ভার্দে কোনো অঘটনে এখানে আসেনি, তারা অজেয়। আমরা তাদের পূর্ণ সম্মান দেব।
এদিকে ডালাসে লড়াইটা অস্ট্রেলিয়া বনাম মিশরের। সকারুস কোচ টনি পোপোভিচ মরিয়া তাদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম নকআউট জয় পেতে। তবে মিশরের শিবিরে দুশ্চিন্তার ভাঁজ কোচ হোসেন হাসানের কপালে। দলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে। কোচ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে সালাহকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেবেন না তিনি।
আফ্রিকানদের হয়ে লড়াইটা বড় করে দেখছেন ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজও। কলম্বিয়ার বিপক্ষে নামার আগে তিনি বলেন, আফ্রিকান দলগুলোর বিদায় আমাদের কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছে। পরবর্তী রাউন্ডে আরেকটা আফ্রিকান দলকে জায়গা করে দেওয়াটাই এখন আমাদের লক্ষ্য।
ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মায়ামি আর ডালাসের দিকে। একদিকে মেসিদের ম্যাজিক দেখার প্রতীক্ষা, অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার জেদ। টুর্নামেন্টের এই উত্তাল মুহূর্তে কোন দল রূপকথার গল্প লিখবে, আর কাদের বিদায়ঘণ্টা বাজবে, তা জানতে রাতের আকাশই সাক্ষী হবে। ফুটবলপ্রেমীরা প্রস্তুত, কারণ আজ রাতে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে!
আর্জেন্টিনার সামনে কতটা টিকবে কেপ ভার্দের ‘অসম্ভব’ মিশন?
আলজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলতে সুইজারল্যান্ড