রোববার রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত মহাযুদ্ধে নামছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তবে ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের হাওয়া বেশ রসালো হয়ে উঠেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ব্রিটিশ মিডিয়া যখন আর্জেন্টিনাকে এক প্রকার ‘নোংরা ও স্লেজিংপ্রিয়’ দল হিসেবে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই স্প্যানিশ ডেরার মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে সেই আগুনে পানি ঢেলে দিয়েছেন। উল্টো প্রতিপক্ষ কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিজের ‘বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে আর্জেন্টিনার অদম্য ফুটবলের প্রশংসা করেছেন তিনি, বলেছেন গোটা বিশ্ব দারুণ একটা ফাইনাল দেখতে পাবে।
ফাইনালে ওঠার পর এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, রোবিবারের ফাইনালটি হবে একটি দুর্দান্ত প্রদর্শনী। মাঠের লড়াইয়ে দুই পরাশক্তিই নিজেদের মেধা ও প্রতিভার সর্বোচ্চটা ঢেলে দেবে। আমি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। ওরা ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে। সবাই নিজেদের মতো করে রণকৌশল সাজাবে, তবে শেষ পর্যন্ত এটি শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ।”
ইংলিশদের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার অতি-আক্রমণাত্মক ও স্লেজিং মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্প্যানিশ অধিনায়ক ও ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি বেশ কড়া জবাব দেন। রদ্রি বলেন, মাঠে স্লেজিং বা উস্কানি ফুটবলেরই একটা অংশ। ওরা মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতে চায় এবং ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে যে কোনো কিছু করতে পারে। তবে যদি মাঠে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, আমরা ওদের পাতা ফাঁদে পা দেব না। আমরা শুধু ওসব এড়িয়ে নিজেদের খেলা খেলব।
এদিকে দলের নতুন বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের ফিটনেস নিয়ে যাবতীয় উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন কোচ। তবে থমাস টুখেলের মতো মেসিকে আটকাতে কোনো ‘মান্ধাতা আমলের ম্যান-মার্কিং’ বা ছায়ার মতো লেগে থাকার কৌশল ব্যবহার করবেন না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। মুচকি হেসে তিনি বলেন, আমরা মেসির পেছনে আলাদা কোনো লোক লেলিয়ে দেব না, তবে ওর প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ নজরদারি ও সতর্কতা থাকবে।
আমেরিকান স্টাইলে বিশ্বকাপ পরিচালনার অংশ হিসেবে রোববারের ফাইনালে পপ কুইন মাদোনা, শাকিরা এবং জাস্টিন বিবারের এক মেগা কনসার্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই জমকালো পারফরম্যান্সের খাতিরে ফিফা প্রথাগত ১৫ মিনিটের হাফ-টাইম বিরতিকে বাড়িয়ে বেশ লম্বা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফুটবল বোদ্ধারা একে ফুটবলের ঐতিহ্য নষ্ট করা বললেও স্প্যানিশ বস একে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার আগেই আমি ছেলেদের আমেরিকার এই অদ্ভুত নিয়মকানুন ও বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছিলাম। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আজ যা আমাদের কাছে অদ্ভুত লাগছে, কয়েক বছর পর হয়তো এটাই ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে যাবে!
১৬ বছর পর স্পেনের সামনে আবারও বিশ্বজয়ের হাতছানি। ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বমঞ্চের মুকুট পরতে মরিয়া রদ্রি বলেন, “আমাদের লক্ষ্যই ছিল ফাইনালে ওঠা। এখন আমাদের সামনে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। ট্রফি জিততে হলে আমাদের মনে হারার ভয়ের চেয়ে জেতার ক্ষুধা বেশি থাকতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এক সাংবাদিক যখন দে লা ফুয়েন্তেকে জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে তিনি কতটা নার্ভাস? তখন স্প্যানিশ ডন এক মহাকাব্যিক রসালো উত্তর দিয়ে বলেন, আমি ফাইনাল নিয়ে বিন্দুমাত্র নার্ভাস নই। আমি নার্ভাস কারণ সংবাদ সম্মেলন শেষে আমাদের হেলিকপ্টারে করে হোটেলে ফিরতে হবে, আর আমি হেলিকপ্টার চড়তে মারাত্মক ভয় পাই! এছাড়া আর কোনো কিছুতেই আমার ভয় নেই। কোচ ট্রফি নিয়ে কতটা নির্ভার, তা তাঁর এই আইকনিক উত্তরই প্রমাণ করে দেয়!
তথ্যসূত্র: বারনামা নিউজ
এবার বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’!
নিলামে পেলের ১০ নম্বর জার্সির অবিশ্বাস্য দাম!
মেসিকে মন ভরে উপভোগ করুন: স্কালোনি