আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত এবং বহুপ্রতিক্ষিত খবরের গুঞ্জন অবশেষে সত্যি হলো, ফ্রান্স ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদান। ৫৪ বছর বয়সী এই সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো জিতে ফ্রান্সকে বিশ্বজয়ের স্বাদ এনে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কোচ হিসেবেও রিয়াল মাদ্রিদকে উপহার দিয়েছেন টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও দুটি লা লিগা ট্রফি। এবার দীর্ঘ ১০ বছর পর দায়িত্ব ছাড়া সাবেক সতীর্থ দিদিয়ে দেশমপর স্থানে ফরাসি ডাগআউটের দায়িত্ব নিলেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান নিয়ে ফ্রান্সের হতাশাজনক অভিযানের পর এখন থেকেই শুরু হচ্ছে জিজুর আসল পরীক্ষা। সেপ্টেম্বর মাসের ইউএফএ নেশন্স লিগের ম্যাচ এবং আগামী বছর থেকে শুরু হতে যাওয়া ইউরো ২০২৮-এর বাছাইপর্বকে সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করছেন তিনি। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে বিদায় নেয়ার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর ফুটবলের মূল স্রোতের বাইরে থাকলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলে জিদানের মানস-ব্যবস্থাপনা ও রণকৌশল অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কীভাবে বদলে যাবে ফরাসি ফুটবলের রূপরেখা?
জিদানের ডাগআউটে আগমন ফরাসি ড্রেসিংরুমে তৈরি করেছে দারুণ এক উদ্দীপনা। কিলিয়ান এমবাপে কিংবা মাইকেল অলিসের মতো তরুণ তারকারা জিজুকে আইডল মানেন, যার ফলে খেলোয়াড়দের সাথে একটি চমৎকার বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করার ক্ষমতা জিদানের অনন্য হাতিয়ার হতে যাচ্ছে। স্প্যনিশ ক্লাব রিয়ালে খেলার সময় যেমন ইসকোকে ‘১০ নম্বর’ পজিশনে ব্যবহার করে কিংবা করিম বেনজেমাকে মূল ভূমিকায় এনে সফলতা পেয়েছিলেন, ফ্রান্স দলেও তেমন কৌশলগত স্বাধীনতা তিনি দিতে পারেন।
দেঁশমের ৪-২-৩-১ ফর্মেশনের জায়গা নিয়ে জিদান নিজের পছন্দের ৪-৩-৩ পজিশনে দলকে খেলাতে পারেন। এছাড়া ফুটবল ম্যানেজমেন্টে আমূল পরিবর্তন আনতে নিজের বিশ্বস্ত ও পুরোনো স্টাফদের সাথে নিয়ে আসছেন জিদান। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন ডেভিড বেতোনি, দ্বিতীয় সহকারী হামিদৌ এমসাইদি, ফিটনেস কোচ গ্রেগরি দ্যুপোঁ এবং গোলকিপিং কোচ হিসেবে সাবেক সতীর্থ ফ্যাবিয়ান বার্থেজ। সাথে যোগ দেবেন নতুন মেডিকেল ও পারফরম্যান্স টিম, যা ফরাসি জাতীয় দলের পরিকাঠামোকে আরও উচ্চপর্যায়ে উন্নীত করবে।

বিগত পাঁচ বছর কোথায় ছিলেন জিদান?
২০২১ সালে অভ্যন্তরীণ সমর্থনের অভাব ও ক্লাব ম্যানেজমেন্টের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর মিডিয়ার আড়ালেই জীবন কাটানো পছন্দ করতেন জিজু। জীবনের এই পাঁচ বছর তিনি পরিবার, স্ত্রী এবং চার ফুটবলার সন্তানের ক্যারিয়ারকে তদারকি করেই পার করেছেন। খেলার পাশাপাশি 'প্যাডেল' খেলায় ব্যবসায়ী হিসেবে বিনিয়োগ করেছেন এবং ফ্রান্স ও ইতালিতে একাধিক ক্রীড়া ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ বেশ কিছু শীর্ষ ক্লাবের আকর্ষণীয় প্রস্তাব থাকলেও কেবল নিজ দেশের জাতীয় দলের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেই আবারও কোচিংয়ে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জিদানের এই নতুন অধ্যায় ফরাসি ফুটবলকে কতদূর নিয়ে যায়, তা দেখতে এখন মুখিয়ে আছে বিশ্ব ফুটবল।
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন
