ফুটবল বিশ্বকাপের বিশ্বরেকর্ডের মঞ্চে এখন যেন এক রাজকীয় ইঁদুর-দৌড় চলছে! এক প্রান্তে ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি ইতিহাস লিখছেন, তো অন্য প্রান্তে ফরাসি গতিদানব কিলিয়ান এমবাপে তাঁর রাজত্বে হানা দিচ্ছেন। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ১৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেন মেসি।
আর তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরাককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে জোড়া গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন এমবাপে। ফুটবল দুনিয়া যখন এই দুই মহাতারকার গোল-যুদ্ধ নিয়ে ফুটছে, তখন কিলিয়ান এমবাপে নিজেই যেন পুরো বিষয়টিতে একটু ঠান্ডা জল ঢেলে দিলেন!

ফরাসি ক্রীড়া সাময়িকী ‘লা ইকুইপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, মেসির সাথে এই গোল-বৈরিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বেশ সোজাসাপ্টা ও অহংকারহীন জবাব দেন ফরাসি নাম্বার টেন। এমবাপে বলেন, এখানে কোনো প্রতিযোগিতা বা রেষারেষি নেই। লিও সব সময়ই গোল করেছে, এখনও করছে এবং ভবিষ্যতেও ও গোল করতেই থাকবে। ও কী করছে তা আমি দেখতে যাই না, কারণ তা দেখতে গেলে আমাকে নিজের ওপর আরও বেশি চাপ নিতে হবে, আরও বেশি গোল করার নেশায় ভুগতে হবে।
বিশ্বকাপে দেশের হয়ে শততম ম্যাচ খেলা ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার আরও যোগ করেন, "আমি শুধু আমার দলের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আপনি যখন নিয়মিত গোল করবেন, তখন এই ধরনের এলিট বা সিলেক্টেড গ্রুপে আপনার নাম এমনিতেই চলে আসবে। তবে আমি আবারও বলছি—আমাদের দলের খেলায় কতটা উন্নতি বা ইভোলিউশন হচ্ছে, সেটা দেখাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা।"
মেসিকে নিয়ে এমবাপে যতই বিনয়ী হোন না কেন, পর্দার আড়ালের পরিসংখ্যান কিন্তু এমবাপের দিকেই তর্জনী তুলছে! ৩৮ বছর বয়সী মেসির চেয়ে বয়সে অনেক ছোট হলেও বিশ্বকাপে এমবাপের গোল করার গড় এক কথায় অবিশ্বাস্য, প্রতি ম্যাচে একটি করে গোল! ২০১৮, ২০২২ এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে মাত্র ১৬টি ম্যাচ খেলেই ১৬টি গোল আকাশছোঁয়া কীর্তি গড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই নতুন গ্যালাক্টিকো।
তুলনা করলে দেখা যায়, ক্লোসার রেকর্ড ছুঁতে এমবাপের লেগেছে মাত্র ১৬ ম্যাচ; সেখানে মেসির লেগেছে ২৭ ম্যাচ। এমনকি স্বয়ং ক্লোসা যখন ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ রোনাল্ডোর রেকর্ড ভেঙেছিলেন, তখনও তাঁর লেগেছিল ২৩ ম্যাচ। অর্থাৎ, কার্যকারিতার দিক থেকে এমবাপে সবাইকে বহুদূরে ফেলে এসেছেন।

এমবাপে স্পষ্ট জানান, আমি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব নিয়ে একটুও ভাবছি না। আমার লক্ষ্য একটাই, দলের সম্মিলিত শক্তিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাতে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারি। বিশ্বকাপে আমি সব সময়ই গোল পেয়েছি, তাই এটা নিয়ে আমার আলাদা কোনো মাথাব্যথা বা দুশ্চিন্তা নেই।
তবে ভাগ্যের কী পরিহাস, আগামী থার্ড রাউন্ড বা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির আগেই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন এমবাপে। এর আগের দুই রাউন্ডে দুই দল একই দিনে খেললেও এবার সূচি আলাদা। শুক্রবার বোস্টনের মাঠে গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।
আর আর্জেন্টিনা তাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচে শনিবার ডালাসের মাঠে লড়বে জর্ডানের বিরুদ্ধে। ফলে শুক্রবার রাতে নরওয়ের জাল কাঁপিয়ে মেসির ওপর গোলের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়িয়ে দেওয়ার এক দারুণ সুযোগ থাকছে ফরাসি রাজপুত্রের সামনে!
