ফুটবল মাঠে হার-জিত তো থাকবেই, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলের সদ্য সাবেক কোচ হং মিউং-বোর পরিণতি যেন হার-জিতের সীমানা ছাড়িয়ে এক চরম উত্তেজনাকর থ্রিলারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে দলের হতাশাজনক বিদায়ের পর দেশের মানুষের তীব্র ঘৃণা আর তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ছদ্মবেশ ধরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এই কোচ!
সিউল বিমানবন্দরে তাকে দেখা গেল এক ভিন্ন রূপে, মুখে মাস্ক আর মাথায় টুপি। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে না পড়তে হয়। ক্যামেরা আর কড়া নজরদারি এড়িয়ে আমেরিকার ফ্লাইটে চড়ার সময় তাকে শনাক্ত করে কোরিয়ার এক টেলিভিশন চ্যানেল। আর এরপরই প্রকাশ্যে আসে হং মিউং-বোর সেই ‘অসহনীয়’ পরিস্থিতির খবর।
কোচ হিসেবে তার ব্যর্থতা এতটাই সমালোচিত হয়েছিল, স্বয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-ম্যুং তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে ছাড়েননি। প্রেসিডেন্ট সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে যখন যোগ্যতার চেয়ে তোষামোদ আর দলীয় কোন্দলকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, তখন এমন অযোগ্য নেতৃত্বই ফুটে ওঠে। দল দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কোচকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বের হতে হয়েছে। এমনকি দেশের অনেক স্থানে তার উপস্থিতি পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।
দলীয় ড্রেসিংরুম সামলানোয় ব্যর্থতা এবং একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে হং মিউং-বো শুধু ভক্তদের ঘৃণার পাত্রই হননি, পেয়েছেন মৃত্যুর হুমকিও। পদত্যাগ করার পরও যখন সমালোচনা থামছিল না, তখন জীবন বাঁচাতে দেশত্যাগকেই একমাত্র উপায় হিসেবে বেছে নিলেন এই কোচ। আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি, তবে ভবিষ্যতে মুখ খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ফুটবল যে আবেগ আর উত্তেজনার এক দারুণ সংমিশ্রণ, তা হং মিউং-বোর এই পলায়ন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের এই নাটক এখন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে তিনি কী রহস্য ফাঁস করেন!
তথ্যসূত্র: মার্কা
মেসি নতুন গল্প লেখার জন্য প্রস্তুত: তেভেজ
শুধু মেসির দিকে তাকিয়ে নেই আর্জেন্টিনা: স্কালোনি