মেক্সিকো সিটিতে সোমবার ভোরে বহুল প্রতীক্ষিত শেষ ষোলোর মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড। আবহাওয়া আর হাই-ভোল্টেজ ড্রামার চাদরে মোড়ানো এই ম্যাচটি নিয়ে পর্দার আড়ালে কম নাটক হয়নি! তবে, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ম্যাচটি আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টাতেই কিক-অফ হবে বলে ইএসপিএন’কে নিশ্চিত করেছে নির্ভরযোগ্য সূত্র।
ম্যাচের দিন সন্ধ্যায় মেক্সিকোর রাজধানীতে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় দেশটির সরকার ম্যাচটি এগিয়ে দুপুর ১২টায় নিয়ে আসার জন্য জোর তদবির চালিয়েছিল। সরকারের মূল ভয় ছিল বজ্রঝড়। এর আগে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে এই একই ভেন্যুতে বজ্রপাতের কারণে খেলা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে হয়েছিল, ফিফা এবার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি মোটেও চায়নি।
তবে সরকারের এই দুপুরের কিক-অফের প্রস্তাবে বাগড়া দেয় স্বয়ং মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন এবং ইংলিশ এফএ। দুই দেশের ফুটবল কর্তাদের তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ফিফা সরকারের অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবেই 'নাকচ' করে দেয় এবং আগের সময়টাই বহাল রাখে।
ম্যাচের সময় পরিবর্তনের এই গুঞ্জন চাউর হতেই মেক্সিকান ডাগআউটে যেন আগুন ধরে গিয়েছিল। সময় বদলানোর ভাবনায় প্রচণ্ড চটেছিলেন মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগিরেই। রেডিও ফর্মুলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন:
‘এটা একদম পেটে লাথি মারার মতো অবস্থা! এখন আমাদের সবকিছু ওলটপালট করে নতুন করে সাজাতে হবে। আমি এটা একদমই পছন্দ করছি না। ফিফার সিদ্ধান্ত তো মানতেই হবে, কিন্তু আমার খেলোয়াড় বা আমি, কেউই এতে খুশি নই’।
অন্যদিকে, ম্যাচ এগিয়ে আনলে বারোটা বাজত ইংলিশ শিবিরেরও। 'থ্রি লায়ন্স'রা শুক্রবার অনেক রাতে মেক্সিকো পৌঁছানোর কথা। শনিবার তাদের অনুশীলন সিডিউল করা হয়েছে দক্ষিণ রাজধানীর উনাম পুমাশ মাঠে। খেলা দুপুরে হলে ইংলিশ ফুটবলাররা মেক্সিকো সিটির মারাত্মক উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার (অ্যাক্লাইমেটাইজেশন) নূন্যতম সময়টুকুও পেতেন না।
ম্যাচটি যেখানে হচ্ছে, সেই অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৩০০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত! এই চরম উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপ আর অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে এলিট অ্যাথলেটদের পারফর্ম করা নরককুণ্ডে পড়ার সামিল। ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই উচ্চতায় মানিয়ে নিতে হয় অন্তত দুই সপ্তাহ আগে আসতে হয়, না হয় 'ফ্লাই-ইন, ফ্লাই-আউট' পদ্ধতিতে ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে এসে মাঠে নেমে পড়তে হয়, যাতে শরীর টের পাওয়ার আগেই খেলা শেষ হয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের নতুন মাস্টারমাইন্ড টমাস টুখেল তো ম্যাচ শুরুর আগেই যেন কিছুটা ব্যাকফুটে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেই তিনি বলেন, আমার যতটুকু ধারণা, এত কম সময়ে এই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব। এটা পুরোপুরি মেক্সিকোর জন্য একটা বিশাল অ্যাডভান্টেজ হতে যাচ্ছে। কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের পর আমরা মাত্র তিন দিন সময় পেয়েছি। এই অল্প সময়ে এত উঁচুতে মানিয়ে নেওয়া শারীরিকভাবে একেবারেই অসম্ভব।
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের গরম হাওয়া ম্যাচটিকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, চিরচেনা ঘরের মাঠ আর চড়া উচ্চতার সুবিধা নিয়ে মেক্সিকো বাজিমাত করে, নাকি সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে টুখেলের ইংল্যান্ড শেষ হাসে হাসে!
মেসির রেকর্ড ও আত্মঘাতী গোলে বাঁচলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা!
সালাহর ম্যাজিকে টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলতে মিশর!
আবার সেই পতাকা হেয়ারস্টাইলে দিবু মার্টিনেজ