ব্রাজিলকে ২-১ গোলে বিদায় করে নরওয়ে যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক আনন্দ উদযাপন করছে, তখন মাঠের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন জোড়া গোলের নায়ক আর্লিং হালান্ড। তবে এই টুর্নামেন্টে মাঠের বাইরেও একজন বিশেষ মানুষ ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন।
তিনি আর কেউ নন, হলান্ডের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং গ্যালারির নিয়মিত মুখ ইসাবেল হগসেং জোহানসেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে এই মহাকাব্যিক জয়ের পর ইসাবেল গ্যালারির উদযাপনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন মাত্র একটি শব্দ, উন্মাদনা। আর তাঁর এই এক শব্দের পোস্টই এখন নরওয়েজিয়ান সমর্থক এবং ম্যানচেস্টার সিটির নাম্বার নাইনের ভক্তদের মাঝে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছে।

শুধুমাত্র হলান্ডের প্রেমিকা হিসেবেই নয়, স্পোর্টস দুনিয়ায় ইসাবেলের নিজস্ব একটা পরিচয় আছে। হলান্ডের মতোই ইসাবেলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নরওয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর ব্রাইনে। ছোটবেলায় একই ক্রীড়াঙ্গনে চলাফেরা করার সুবাদে দুজনের পরিচয়। মজার ব্যাপার হলো, হলান্ড যে ব্রাইন এফকে ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন, ইসাবেলও সেই ক্লাবের বয়সভিত্তিক নারী দলের হয়ে ফুটবল খেলেছেন!
পরবর্তীতে হলান্ডের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এসে নিজের ফুটবল খেলার দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে রসিকতার ছলে ইসাবেল বলেন, সত্যি বলতে, আমি ড্রিবলিংয়ে কখনোই খুব একটা ভালো ছিলাম না। আমার আসল শক্তি ছিল দৌড়। আমার দারুণ গতি ছিল। তবে, ফুটবলের অভিজ্ঞতা থাকলেও ইসাবেল এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নেননি, বরং নিজের ব্যক্তিগত প্রজেক্ট ও ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন।
কৈশোরের বন্ধুত্ব থাকলেও তাঁদের প্রেমের গল্প কিন্তু খুব বেশি পুরনো নয়, শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। নরওয়েজিয়ান ব্রডকাস্টার এনআরকে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড নিজেই ফাঁস করেছিলেন এক গোপন তথ্য। হলান্ড জানান, ইসাবেলই প্রথম উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলেন! অর্থাৎ, মাঠের গোলমেশিন হলান্ডকে প্রথম ‘লাইন’ মেরেছিলেন এই গতিময়ী ফুটবলারই। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই দম্পতির কোলজুড়ে আসে প্রথম সন্তান।

আজকের যুগে যেখানে সেলিব্রিটিরা সন্তানের ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক-কমেন্টের বন্যা বইয়ে দেন, সেখানে হলান্ড ও ইসাবেল হেঁটেছেন সম্পূর্ণ উল্টো পথে। হলান্ডের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের সন্তানের পরিচয় পুরোপুরি গোপন রেখেছেন। আজ পর্যন্ত সেই বাচ্চার নাম কিংবা কোনো ছবিই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি! হলান্ড অবশ্য বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, সন্তানের আগমন তাঁর দৈনন্দিন রুটিন বদলে দিয়েছে এবং তাঁর ক্যারিয়ারে দারুণ মানসিক ভারসাম্য এনে দিয়েছে।
শত শত ফলোয়ার নিয়ে ইসাবেল বর্তমানে একজন সফল ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করলেও অন্য ফুটবলারদের স্ত্রীদের মতো তিনি নিজের পারিবারিক জীবন বা হলান্ডের সাথে সম্পর্কের খুঁটিনাটি নিয়ে অতিরিক্ত আদিখ্যেতা করা পছন্দ করেন না। এই সংযত ও মার্জিত স্বভাবের কারণেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ তারকার সঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও কোনো সস্তা বিতর্ক ছোঁয়াছুঁয়ি করতে পারেনি এই জুঁটিকে। সিটির হয়ে বড় ম্যাচ হোক কিংবা ব্যালন ডি'অরের জমকালো অনুষ্ঠান, আর এখন এই ২০২৬ বিশ্বকাপ, হলান্ডের প্রতিটি মহাকাব্যের নেপথ্যে গ্যালারির আড়াল থেকে শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছেন এই ব্রাইনের চেনা মেয়েটিই!
