ব্যবস্থাপনার নানা ত্রুটি, আবাসন ও পরিবহন সংকট এবং বিরূপ আবহাওয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই শনিবার থেকে জাপানের নাগোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠছে এশিয়ার বৃহত্তম ক্রীড়াযজ্ঞ এশিয়ান গেমসের। দীর্ঘ ৩২ বছর পর উদীয়মান সূর্যের দেশ জাপান আবারও এই মর্যাদাপূর্ণ আসর আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। নাগোয়ার মিজুহো পার্ক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০তম এশিয়ান গেমসের সূচনা হবে।

এশিয়া মহাদেশের সেরা ক্রীড়াবিদদের এই মিলনমেলা ঘিরেই শুরু থেকেই দানা বেঁধেছে নানা বিতর্ক। সবচেয়ে বড় বিপত্তি তৈরি হয়েছে আবাসন নিয়ে। প্রথাগত ‘অ্যাথলেটস ভিলেজ’ না বানিয়ে আয়োজকেরা প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাকে তুলেছেন বিভিন্ন হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ এবং বিশালাকার ক্রুজশিপে। ঘর ও বিছানা ছোট হওয়া নিয়ে খেলোয়াড়দের ক্ষোভ যেন থামছেই না।

তবে সব অব্যবস্থাপনার মাঝেও প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ইতালীয় বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ ‘কোস্টা সেরেনা’। নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা ১ লাখ টনেরও বেশি ওজনের এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজে ১,৫০০টি কেবিনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার।
আবাসনের পাশাপাশি বাগড়া দিয়েছে আবহাওয়াও। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে ট্রেন যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া এবং গেমসের শুরুর দিকেই টাইফুনের আগাম সতর্কবার্তায় বেশ উদ্বেগে রয়েছে আয়োজক কমিটি। তবে গত দুদিনের ঝলমলে রোদ কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়েছে।

সব বিতর্ক পাশ কাটিয়ে গেমসের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে জাপানের সর্ববৃহৎ আয়োজন। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলতে থাকা এই মহাযজ্ঞে ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ৪৩টি খেলার ৪৬৯টি মেডেল ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মূল শহর নাগোয়ার পাশাপাশি টোকিওতে সাঁতার এবং ওসাকায় ফুটবলের ইভেন্টগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এবার ই-স্পোর্টসের পাশাপাশি প্যাডেল, সার্ফিং, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো ও মিক্সড মার্শাল আর্টসের মতো নতুন ডিসিপ্লিন যুক্ত হওয়ায় উন্মাদনা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
