আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক বিদায়ী মঞ্চে মঙ্গলবার রাতে তৈরি হলো এক অবিস্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর দৃশ্যপট! এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর পুরো স্টেডিয়াম যখন প্রিয় অধিনায়কের বিদায়ী ভাষণে স্তব্ধ, ঠিক তখনই মাইক্রোফোন হাতে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও রূপকথার মতো এক স্মৃতির সিন্দুক খুললেন ফুটবল ঈশ্বর। আর সেই স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অন্য কেউ নন, আর্জেন্টিনার তরুণ তুর্কী এনজো ফার্নান্দেজ!

বিদায়ী ভাষণে আবেগপ্লুত মেসি গ্যালারির আশি হাজার দর্শকের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করেন এক গোপন ইতিহাস, ২০১৬ সালে যখন আমি হুট করে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলাম, তখন আমাদের এক খুদে ভক্ত আমাকে একটি চিঠি লিখেছিল। সেই চিঠিতে সে আকুল আবেদন জানিয়েছিল আমি যেন খেলা চালিয়ে যাই। আমাকে বলেছিল, আমার সঙ্গে অন্তত একবার একই মাঠে ফুটবল খেলার স্বপ্ন কতটা গভীর তার কাছে। সেই কিশোরের লেখা শব্দগুলো আমার হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল এবং আমি সিদ্ধান্ত বদলে জাতীয় দলে থেকে যাই। তার ঠিক চার বছর পর, সেই একই ছেলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমি কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জয়ের পরম সৌভাগ্য লাভ করি। সেই খুদে ছেলেটি আর কেউ নয়, আজকের এনজো ফার্নান্দেজ!
অধিনায়কের মুখ থেকে এই ইতিহাস শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠের মধ্যে শিশুদের মতো অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন ২৫ বছর বয়সী চেলসি তারকা এনজো। ২০১৬ সালে ১৫ বছর বয়সে লেখা এক সাধারণ অনুরাগী কিশোরের চিঠি থেকে শুরু করে ২০২২ সালে কাতারের মাটিতে অধিনায়কের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরা, এমিলিয়ানো মার্তিনেস ও সতীর্থদের সামনে এনজোর সেই কান্নাভেজা মুহূর্তের ভিডিও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের এনজো ভেজা চোখে জানান, দিনটি ছিল তীব্র আবেগ ও মিশ্র অনুভূতির। এরপর গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিনায়কের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি পোস্ট করেন এই বিশ্বজয়ী মিডফিল্ডার।
চিঠিতে এনজো লেখেন, ১৫ বছর বয়সে তিনি কীভাবে নিজের আর মেসির বয়সের হিসাব কষে প্রথম বিভাগে খেলার স্বপ্ন দেখতেন, শুধু জাতীয় দলে মেসির পাশে একবার দাঁড়ানোর আশায়। এনজো আরও লেখেন, প্রথম দিন থেকেই মেসি ভাই আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন, প্রতিটা মুহূর্তে দিয়েছেন ভরসা আর সাহস। এখন পরের আন্তর্জাতিক ক্যাম্পে ১০ নম্বর জার্সি ছাড়া মাঠে নামার কথা ভাবলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। আপনাকে আমরা বড্ড মিস করব, ক্যাপ্টেন!
শিরোপা বা ট্রফির গণ্ডি ছাড়িয়ে ফুটবল যে কীভাবে সম্পর্কের বন্ধন আর জীবন্ত আবেগের রূপকথা হয়ে উঠতে পারে, বুয়েনোস আইরেসের নীল-সাদা রাতে মেসি ও এনজোর এই মহাকাব্যিক গল্পই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হয়ে রইল!
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
