এবার আঙুলের স্পর্শ ছাড়াই ব্যবহার করা যাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এমনটাই দাবি একদল মার্কিন বিজ্ঞানীর। তারা বলছেন, তারা এমন একটি চিপ তৈরি করেছেন যা মানুষের মস্তিষ্কে স্থাপন করা যাবে এবং এর ফলে মানুষ মস্তিষ্ক দিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে।
পরীক্ষামূলক চিপটি (সিংগেল বোর্ড কম্পিউটার) মানুষের চুলের চেয়েও সুক্ষ এবং এটিকে পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে সুস্থ মানুষও এটি ব্যবহার করতে পারবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল বলছে, চিপটি ইলন মাস্কের কোম্পানির তৈরি ব্রেন ইমপ্লান্টের থেকে আলাদা, কারণ এটি কম আক্রমণাত্মক এবং এটিকে টিস্যুর পরিবর্তে মস্তিষ্কের পৃষ্ঠে বসানো যায়।
'লেয়ার ৭ কর্টিকাল ইন্টারফেস' নামের চিপটি অনেকটা স্কচ টেপের মতো নমনীয় এবং পাতলা ফিল্ম উপাদানের একটি স্ট্রিপ।
এটির পুরুত্ব মানুষের চুলের এক-পঞ্চমাংশ। যার ফলে কোনো টিস্যুর ক্ষতি না করেই মস্তিষ্কের পৃষ্ঠের সাথে এটি যুক্ত হতে পারে।

চিপটিকে মস্তিষ্কে যুক্ত করার জন্য সার্জনরা মাথার খুলিতে একটি ছোট্ট চেরা তৈরি করেন এবং এটিকে এমনভাবে ভেতরে ঢুকিয়ে দেন, যেন একটি বাক্সে একটি চিঠি রাখা হচ্ছে স্রেফ।
মার্কিন কোম্পানি প্রিসিশনের সিইও মাইকেল ম্যাগার সিএনবিসিকে বলেছেন, চিপটি এক মিলিমিটারেরও কম পুরু, অর্থাৎ এটির জন্য রোগীদের মাথা কামানোর দরকার নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি যে, অন্যান্য প্রযুক্তিগুলোর তুলনায় এটির বড় সুবিধা রয়েছে। মাথার খুলির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অপসারণ করতে অনেক সময় লাগে এবং সংক্রমণের অনেক ঝুঁকি থাকে। আমি এমন কাউকে দেখিনি যে তাদের মাথার খুলিতে ছিদ্র করতে চায়।
চিপটি মস্তিষ্কের সংকেত সংগ্রহ করে, তাদের ব্যাখ্যা করে এবং মস্তিষ্কের প্রাপ্ত সংকেতের ওপর নির্ভর করে একটি সংযুক্ত মেশিনে কমান্ড আউটপুট পাঠায়।
আরও পড়ুন: ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা হবে’
বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা সহজেই চিপটিতে ইলেক্ট্রোডের সংখ্যা বাড়াতে পারেন, যার মাধ্যমে এটিকে অন্যান্য স্নায়বিক চিকিত্সার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে প্রিসিশন কোম্পানি বলছে, প্রাণীদের মস্তিষ্কে এরইমধ্যে সফলভাবে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মানুষের ওপরও পরীক্ষা শুরু হবে। আর পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরেরই বাজারে মিলতে পারে এ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি।
একাত্তর/আরবিএস
