দক্ষিণী সিনেমার ‘থালাপতি’ বিজয় এখন তামিলনাড়ুর দাপুটে মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই দিনরাত কাটছে তাঁর রাজনীতির ময়দানে, একের পর এক হাই-প্রোফাইল বৈঠক আর গুরুদায়িত্ব সামলাতে। ওদিকে গ্ল্যামার দুনিয়ার টপ হিরোইন তথা বিজয়ের চর্চিত প্রেমিকা তৃষা কৃষ্ণন কি তবে তীব্র একাকিত্বে ভুগছেন? সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে তৃষার এক পোস্ট কিন্তু নেটপাড়ায় নতুন করে এই গুঞ্জন ও জল্পনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

নিজের প্রিয় পোষ্য কুকুরের একটি মিষ্টি ছবি শেয়ার করে তৃষা ক্যাপশনে লিখেছেন, আমার ব্যক্তিগত জীবনে আমি মাত্র এক জনকেই নাক গলাতে দিই। ব্যাস, এইটুকু লিখেই তিনি খালাস! কিন্তু নেটিজেন এবং খবরের শিকারি সাংবাদিকেরা দুইয়ে দুইয়ে চার করতে এক সেকেন্ডও সময় নেননি।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তৃষা কি এই বার্তার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কেই খোঁচা দিলেন? ব্যস্ত প্রেমিককে কাছে না পাওয়ার অভিমানই কি ঝরে পড়ল এই পোস্টে? তৃষা অবশ্য এই বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব দেননি, আর রাজকার্যে ব্যস্ত বিজয়ও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে দুজনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ইদানীং অন্য নানা খবরে তাদের এই ‘প্রেমকাহিনি’ কিছুটা ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল, তাই কি আবার খবরের শিরোনামে লাইমলাইট কাড়তেই তৃষার এই হঠাৎ পিঞ্চ-করা মন্তব্য?

বিজয় রাজনীতিতে আসার আগে যখন দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একচ্ছত্র সম্রাট ছিলেন, তখন থেকেই তৃষার সাথে তাঁর মন দেয়া-নেয়ার গুঞ্জন ছিল ওপেন সিক্রেট। তবে জলঘোলা হয় তখন, যখন বিজয় রাজনীতিতে নামার ঠিক আগে তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা সোনারলিঙ্গম স্বামীর এই গোপন ‘কিস্সা’ একদম হাটে হাঁড়ি ভেঙে ফাঁস করে দেন! বিজয় ও তৃষার বেশ কিছু একান্ত মুহূর্তের ছবি তিনি ছড়িয়ে দিতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

মজার বিষয় হলো, তৃষার জন্মদিনের দিনই নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন বিজয়। আর বিজয়ের রাজকীয় শপথ গ্রহণের দিন তো প্রচারের সমস্ত আলো বিজয়ের চেয়ে তৃষার ওপরেই বেশি ছিল। এমনকি দিনকয়েক আগে দক্ষিণের আরেক সুপারস্টার অজিত কুমারের মাতৃবিয়োগের পর তাঁর বাড়িতে শোকপ্রকাশ করতেও একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন বিজয় ও তৃষা।

সিনেমা জগত তো অলরেডি তৃষাকে বিজয়ের ‘লাকি চার্ম’ তকমা দিয়েই দিয়েছে। তবে যাই হোন না কেন, প্রেমিক এখন আমজনতার ‘মুখ্যমন্ত্রী’। তাই পাওয়ার পলিটিক্সের জাঁতাকলে পড়ে প্রেমিকা তৃষা যে একটু আধটু একাকিত্বের স্বাদ পাচ্ছেন, তা তাঁর এই ‘নাক গলানো’ পোস্টেই স্পষ্ট!
