২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক কানাডা। টরন্টোর বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে ‘গ্রুপ বি’-এর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ইউরোপীয় শক্তি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কানাডিয়ানরা। পপ তারকা নোরা ফাতেহির চোখ ধাঁধানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠে শুরু হয় দুই দলের এই সেয়ানে সেয়ানে টক্কর।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে দাপট দেখানোর চেষ্টা করছিল কানাডা। তবে ম্যাচের ২১তম মিনিটে পুরো গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়ে বসনিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ। রক্ষণভাগের ফাঁক গলে বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে বসনিয়ান শিবির।

পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড গোলের একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। এরপর আরেকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নস্যাৎ করে দেন বসনিয়ার অধিনায়ক সিয়াদ কোলাসিনাক; কানাডার খেলোয়াড়ের নেওয়া শট গোললাইনের ওপর থেকে দুর্দান্তভাবে ক্লিয়ার করেন এই ডিফেন্ডার।
কানাডার জন্য এই ম্যাচটি এমনিতেই এক বড় অগ্নিপরীক্ষা ছিল, কারণ চোটের কারণে দলের প্রধান চালিকাশক্তি ও অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস এই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। তার ওপর প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সাধারণ কোনো দল নয়; চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে প্লে-অফে নকআউট করে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে তারা। অধিনায়ককে ছাড়া ইউরোপের এই খতরনাক দলের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বেশ চাপেই ছিল কানাডা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ডাগআউট থেকে কানাডিয়ান কোচের একটি চাল পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র কয়েক মুহূর্তের মাথায় বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে কানাডাকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান তারকা স্ট্রাইকার সাইল লারিন। লারিনের এই জাদুকরী গোলের পর টরন্টোর স্টেডিয়াম জুড়ে এখন উল্লাসের গর্জন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা কানাডা এই সমতা ফেরা পরের ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে শক্তি যোগাবে, সেটা বলাই যেতে পারে।
