করোনার ওমিক্রন ধরন ঠেকাতে এরইমধ্যে বুস্টার ডোজ নিয়ে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রথম বিশ্বের দেশগুলো। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মুখে ভিন্নি সুর। ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন, ধনী দেশগুলো বুস্টার ডোজ চালুর জন্য যে তড়িঘড়ি শুরু করেছে তাতে টিকা বৈষম্য আরও বাড়বে এবং অপরিকল্পিত বুস্টার ডোজ মহামারিকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস আরও বলেন, ব্যাপক বুস্টার কর্মসূচি করোনা মহামারির অবসানের বদলে এটিকে দীর্ঘায়িত করতে যাচ্ছে। যেসব দেশে ইতিমধ্যে উঁচু মাত্রার ভ্যাকসিন কাভারেজ রয়েছে সেখানে আরও ডোজ সরবরাহ করা হলে, ভাইরাসটি আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আরও নতুন ধরন তৈরি হতে পারে।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বল মানুষদের অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনও দেশই বুস্টার দিয়ে মহামারি কাটাতে পারবে না বলেও মত দেন তিনি। খবর আল-জাজিরার।
ডব্লিউএইচও বলছে, কিছু অঞ্চলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে করোনা ছড়িয়ে পড়লে আরও বিপজ্জনক ধরন তৈরির আশঙ্কা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে, করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ঢেউ ধারণার চেয়ে কিছুটা কম তীব্র বলে প্রাথমিক গবেষণায় দাবি করছেন যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষকরা।
লন্ডনের ইমপিরিয়াল কলেজের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ডেলটায় আক্রান্তদের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম।
যুক্তরাজ্যে ১ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়া পিসিআর টেস্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানান, ডেলটার তুলনায় ওমিক্রনে সংক্রমিত হলে হাসপাতালে থাকার ঝুঁকি কম থাকে।
স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের প্রাথমিক গবেষণার ফলাফল থেকেও এমন তথ্য জানা গেছে। সেখানে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে করোনাভাইরাসের ডেলটা ও অমিক্রন ধরনে যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অমিক্রনে আক্রান্ত হলে ডেলটার তুলনায় হাসপাতালে থাকার ঝুঁকি দুই-তৃতীয়াংশ কমে যায়।
কয়েক মাস আগে থেকেই ডব্লিউএইচও প্রধান বুস্টার ডোজ প্রয়োগ স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
তার মতে, সব দেশের অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ প্রথম ডোজ নেওয়ার আগে বুস্টার প্রয়োগ বন্ধ রাখা উচিত। ওই লক্ষ্য অর্জনে এই বছর সারা বিশ্বে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু এই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বের মাত্র অর্ধেক দেশ সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলেও বুধবার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের ধনী দেশগুলোর ৬৭ শতাংশ মানুষ অন্তত প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে টিকা গ্রহণের পরিমাণ ১০ শতাংশেরও কম। টিকা বৈষম্যের ফলে কোনো কোনো অঞ্চলে আরও বিপজ্জনক ধরন তৈরির শঙ্কা বাড়ছে।
উদাহরণ হিসেবে আফ্রিকার কথা উল্লেখ করে টেড্রোস বলেন, এটা আসলেই বোঝা কঠিন যে, প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগের এক বছর পার হয়ে গেলেও আফ্রিকার প্রতি চার জন স্বাস্থ্য কর্মীর মধ্যে এখনও তিনজনই টিকা পায়নি।
আরও পড়ুন: করোনা: ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সঙ্গে বাড়লো শনাক্ত
এদিকে ইউরোপ জুড়ে বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। বুধবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে একদিনে করোনা শনাক্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় অঞ্চলের ৫৩টি দেশের মধ্যে ৩৮ট দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ডেনমার্ক, পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে প্রভাব বিস্তার করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রধান হ্যান্স ক্লুগ বলছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি আরেকটি ঝড় আসছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে ওমিক্রন দাপট দেখাবে। ইউরোপে ওমিক্রন ধরন ছড়িয়ে পড়ায় করোনার সংক্রমন 'উল্লেখযোগ্য হারে' বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন।
একাত্তর/আরবিএস
