ঝালকাঠিতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় রাসেল (৩৮) নামে আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, আগুনে রাসেলের দুই সন্তান জীবন (১৪) ও ইমন (৯) লঞ্চেই মারা গিয়েছিল।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি ওই রোগীর মৃত্যু হয়। বর্তমানে আরও ১২ রোগী ভর্তি আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাসেলের শরীরের ১৮ শতাংশ দগ্ধ এবং শ্বাসনালী পুড়ে গিয়েছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর ঝালকাঠি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ রাসেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার আইসিসিইউ'র ১২ নম্বর বেডে মারা যান তিনি
নিহত রাসেলের শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৬০) এবং শ্যালকের স্ত্রী রুমা (২০) ও রুমার মেয়ে অহনা (৩) আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। বর্তমানে রাসেলের স্ত্রী পুতুল এবং পুতুলের বড় ভাই কালু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত রাসেলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ময়না গণমাধ্যমকে জানান, রাসেল একটি রুটির দোকানের ভ্যান গাড়ি চালাতো। তার বাসা সবুজবাগ থানার মাদারটেক এলাকায়। ঢাকা থেকে পরিবারসহ ঝালকাঠিতে বেড়াতে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে, সকালে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী একইদিন সকালে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেলে ভর্তি ১৩ রোগীর কেউই আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানান ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন।
আরও পড়ুন: শংকামুক্ত নন লঞ্চ দুর্ঘটনার ১৩ রোগী
এরমধ্যেই আরও একজন মৃত্যুর খবর এলো। এনিয়ে হাসপাতালে চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর দিয়াবাড়ি নামক স্থানে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান ১০ নামে একটি লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যু এবং আহত ৭২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে, নিখোঁজ ৫১ জনের তালিকা দেয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
এ ঘটনায় লঞ্চটির মালিক হামজালাল শেখসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে মালিক-মাস্টারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ইতোমধ্যে অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
একাত্তর/টিএ
