চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদা হাপানিয়া গ্রামের সহায়-সম্বলহীন পঙ্গু আব্দুল হামিদের স্ত্রী বাঁচেনা খাতুন (৫০) জমিজমা বিক্রি করে ২০০২ সালের ২৫ মার্চ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাজা ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অপসারণে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন।
অস্ত্রোপচার করেছিলেন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিজানুর রহমান। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে ছিলেন রাজা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজা।
অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর বাচেনা খাতুনকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। তখন থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ভুগতেন তিনি।
অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ডা. রাজার শরণাপন্ন হলে তিনি কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা বলে বাচেনাকে ফেরত পাঠান। চিকিৎসকের কাছে পাত্তা না পেয়ে বাচেনার পেটের যন্ত্রণা বাড়তেই থাকে। পরে আবার ডা. রাজার সঙ্গে দেখা করেও কোনো লাভ হয়নি।
পরে সুস্থ হতে বিভিন্ন এলাকার চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন বাচেনা খাতুন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিতে বিক্রি করতে হয় শেষ সম্বল দুটি গরু।
পেটের ব্যথা নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় এভাবেই বছরের পর বছর ডাক্তারের কাছে ছুটেছেন তিনি। খুইয়েছেন অর্থ-সম্পদ।
আরও পড়ুন: শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
অবশেষে ২০-২৫ দিন আগে রাজশাহীর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্সরে করালে তার পেটে কাঁচির সন্ধান পাওয়া যায়। এটিকে মূলত চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সার্জিক্যাল আরটারি বলা হয়।
বাচেনা খাতুনের পেটের যন্ত্রণা বাড়তে থাকলে গত ৪ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। এরপর থেকে পেটের যন্ত্রণা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ।
ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ খাবার নানা খরচে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যান তার স্বজনরা। এই অবস্থায় যে ক্লিনিকে বাচেনার অপারেশন করা হয়েছিল সেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সব খরচের দায়িত্ব নিলে ১০ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট (সিনিয়র) ডা. ওয়ালিউর রহমান বাচেনার সফল অস্ত্রোপচার মাধ্যমে ২০ বছর আগে রেখে দেওয়া সেই সার্জিক্যাল আরটারি বের করেন।
এমন অবহেলার বিষয়ে চিকিৎসক ডা. ওয়ালিউর রহমান বলেন, এমন ঘটনা ঘটতেই পারে এবং বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রেও ঘটেছে। তবে, এ ঘটনার সাথে জড়িত চিকিৎসকের শাস্তির ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, এ ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর সিভিল সার্জন জাওয়াহেরুল ইসলাম।
কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাংনীর সেই রাজা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।
একাত্তর/এসজে
