সিরাজগঞ্জের তাড়াশে যৌতুকলোভী স্বামী ও শাশুড়ির ধারাবাহিক নির্যাতন সইতে না পেরে মীম খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূ বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাড়াশ পৌর সদরের প্রফেসর পাড়া মহল্লায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বাবা কলেজ শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাড়াশ পৌর সদরের প্রফেসর পাড়া মহল্লার বাসিন্দা কামরুজ্জামানের মেয়ে মীমের সাথে উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারী গ্রামের মো. রইচ উদ্দিনের ছেলে মওলানা জাকির হোসেনের (২৫) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় মেয়ের বাবা যৌতুকের কিছু টাকা ও স্বর্ণালংকার দিলেও কিছু টাকা ও স্বর্ণালংকার বাকী রাখেন।
আর এ কারণে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকলোভী স্বামী ও তার বাবা-মা জন্য মীমকে নিয়মিত মারধর করতেন। এরই এক পর্যায়ে গত শনিবার দুপুরে স্বামী ও শাশুড়ি পুনরায় যৌতুকের জন্য মীমকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
আরও পড়ুন: বাঘাইছড়িতে সাবেক ইউপিডিএফ সদস্য অপহৃত
পরে গৃহবধূ মীম বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং কীটনাশক পান করে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের লোকজন মীমকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আর সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টার দিকে মীমের মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়ার বিষয়টি এখন বগুড়া সদর থানা পুলিশ ব্যবস্থা নেবেন।
একাত্তর/এসজে
