দক্ষিণ আফগানিস্তানের একটি গ্রামে তিন দিন আগে কুয়ায় পড়ে যায় ছয় বছরের হায়দার। আটকে থাকা এই শিশুকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা চালায় উদ্ধারকর্মীরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যর্থ হতে হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে হায়দারকে কুয়া থেকে বের করে আনা হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, আফগানিস্তানের দক্ষিণের জাবুল প্রদেশের শকাক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গেলো মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হায়দার রাস্তা একটি ৮০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যায়। নিচে পড়ে গেলেও শিশুটি সেখানে বেঁচে ছিলো এবং নড়াচড়া করতে পারছিল। কিন্তু গর্তটি অনেকটাই সরু ছিলো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির বাবা কুয়ার ভেতর আটকে পড়া ছেলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
ভিডিওতে শোনা যায়, হায়দারের বাবা বলছেন, "তুমি ঠিক আছো বাবা? আমার সঙ্গে কথা বলো, কান্না করো না। আমরা তোমাকে বের করে আনতে কাজ করছি।"
উত্তরে ছেলেটি বলে, "ঠিক আছে। আমি কথা বলবো।"
জানা যায়, স্থানীয় কিছু মানুষ দড়ি দিয়ে হায়দারকে গর্ত থেকে তুলে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতেই ঘটে বিপত্তি। দড়ি দিয়ে তুলে আনার সময় গর্তের মুখ থেকে প্রায় ৩২ ফুট নিচে শিশুটি আটকে যায়। ওই জায়গায় গর্ত আরো বেশি সরু হওয়ার শিশুটির শরীর সেখানে আটকে গিয়ে ঝুলে থাকে।
আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, গর্তটি সরু হওয়ায় শিশুটির কাছে খাবার বা পানি সরবরাহ করতে পারছিলো না উদ্ধারকর্মীরা। শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে প্রায় সব চেষ্টায় চালান তারা।
একাধিক বাহিনীর সহযোগিতায় টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মাটি কেটে শুক্রবার শিশুটির কাছাকাছি পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, শুরুতে শিশুটির সাড়া পাওয়া গেলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে কুয়ার ভেতর আর কোনো আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। শিশুটি কারো সাথেই আর কথা বলছিলো না। শুক্রবার বিকালে শিশুটিকে যখন উদ্ধার করা হয় তখনও সে অচেতন অবস্থায় ছিলো।
জাবুল পুলিশের মুখপাত্র বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করার পর কয়েক মিনিট পরও সে শ্বাস নিয়েছিলো। সেখানে থাকা চিকিৎসক দল তাকে অক্সিজেনো দিয়েছিলো। কিন্তু তাকে যখন হেলিকপ্টারে নেওয়া হচ্ছিলো তখনই সে মারা যায়।
আরও পড়ুন: আহমেদাবাদ সিরিজ বোমা হামলায় ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড
এদিকে শিশুটির মৃত্যুতে এক টুইটে তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আনাস হাক্কানি বলেন, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ছোট্ট হায়দার আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছে।
এর আগে চলতি মাসে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে প্রায় ১০৫ ফুট গভীর একটি কূপের মধ্যে পড়ে যায় শিশু রায়ান। এরপর থেকেই পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় সব। টানা পাঁচদিন আপ্রাণ চেষ্টার পরও রায়ানকে বাঁচাতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা।
একাত্তর/আরবিএস
