ডেথ ওভারে বল করার জন্য যে শক্তি আর আত্মবিশ্বাস দরকার হয় সেটা সবার থাকে না, অনেক বড় বড় বোলারও ওই সময় স্নায়ু চাপটা নিতে পারেন না।
নিন্দুকেরা প্রায় বলেন শেষ ওভারে গিয়ে প্রবল চাপ নেয়ার মতো বাংলাদেশি বোলার তেমন একটা নেই। কিন্তু শহিদুল বলছেন আমি আছি।
পর পর দুইটা বিপিএলের ডেথ ওভারে বল করেই দলকে জিতিয়েছেন বাংলাদেশি এই পেসার।
অসুস্থ বাবার আঙ্গুল একবার ছুঁয়ে দেখতে, গত বছর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ চলার সময় দল ছেড়ে বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন শহীদুল ইসলাম। কিন্তু বাবার আঙ্গুলটা আর ছুঁয়ে দেখা হয়নি।
মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়া এক সমুদ্র দুঃখ নিয়ে বাবার মৃত্যুর শোক বুকে চাপিয়েই আবার জেমকন খুলনায় যোগ দিয়েছিলেন শুধু বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্যই।
শহিদুল সেদিন নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন মাঠে, ডেথ ওভারে ওর দারুণ বোলিংয়ের পাশাপাশি খুলনার জয়ে বড় অবদানও রেখেছিলেন, জয়ের নায়কও বনে গিয়েছিলে।
ডেথ ওভারে বল করার জন্য শুধু ভালো বলার হলেই হয় না, বুকে থাকতে হয় অদম্য সাহস ও আত্মবিশ্বাস। ব্যাটারের সঙ্গে চালাতে হয় স্নায়ুযুদ্ধ। সেটা ভালোই রপ্ত করেছেন শহীদুল।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বরিশালের জয়ের জন্য যখন দরকার ১০ রানের, কুমিল্লার অধিনায়ক তখন বল তুলে দেন শহিদুল ইসলামের হাতে। বছর যেতে না যেতেই বিপিএলে আবারো নিজের দলকে শিরোপা এনে দিয়েছেন এই ডান হাতি পেস বোলার।
নিন্দুকেরা বলে ফাইনাল ম্যাচে ডেথ ওভারের চাপ নেয়ার মতো বাংলাদেশী কোনো বোলার নেই, সেই কথাকে বার বার ভুল প্রমাণ করে আসছেন শহীদুল, যার ডান হাতের কারিশমাতেই লাল সবুজের জার্সিতেও একদিন ফোটাবেন আশার ফুল।
