সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে রয়েছে যানবাহনের চাপ। তীব্র যানজটে বসে থেকে নাকাল যাত্রীরা। তারা রীতিমতো ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পরই, রাজধানীর সবকটি মূল সড়কে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে নতুন বাজার থেকে রামপুরা ও মালিবাগ, শাহবাগ, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি ২৭ এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা এলাকায় সবচেয়ে বেশি যানজট।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে অফিসগামীদের অনেকেই পায়ে হেঁটে রওনা হচ্ছেন। একই সঙ্গে, মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন রাস্তায় খোঁড়াখুড়ির কারণেও বেড়েছে যানজট।
এ কারণে গত ৮ থেকে ৯ মাস ধরেই মিরপুরের বিভিন্ন সড়কের একপাশ বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্ব পাশের ছোট্ট রাস্তায় দুমুখী যান চলাচল করছে। ফলে এই অংশ পাড়ি দিতেই লাগছে কয়েক ঘণ্টা।
মিরপুর সড়কের বেহাল দশার কারণে কল্যাণপুর সড়কে বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ। তাই কল্যাণপুর থেকে আসাদগেট আসতেই লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা।
একই অবস্থা নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফার্মগেট মোড়। কোন নির্দেশনা ছাড়াই সড়কের বড় একটি অংশ জুড়ে চলছে পাইলিং এর কাজ।
একে তো মেট্রোরেলের কারণে সরু সড়ক। তার উপর এই কর্মযজ্ঞ। ফলে একদিকে মানিকমিয়া এভিনিউ অন্যদিকে বিজয়সরণী থেকে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির জট।
যানজটের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো তথ্য দিতে না পারলেও বলা হচ্ছে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের দুইমাসে অনেক সংখ্যক গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করছে। দিনকে দিন এ সংখ্যা বাড়ছেই। বিশেষ করে প্রাইভেটকারও মোটরসাইকেল।
এর মধ্যে অনেকে বাণিজ্যিক কারণে গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছে, যার ফলে একটি বড় সময় ধরে রাজধানীতে গাড়ি চলছে। যা অন্যান্য সময়ে চলতোনা।
আরও পড়ুন: এক চুলা ৯৯০, দুই চুলা ১০৮০ টাকা করার সুপারিশ
অন্যান্য গাড়ির তুলনায় রাজধানীতে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা যানজটে পড়ে আছেন, তারা বলছেন গত ১৫ দিন ধরে এ সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। করোনাকালের আগে এমন যানজট ছিলোনা বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।
মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এবং রাস্তার ওপর বাণিজ্যিক কারণে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ফলেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে।
তাছাড়া ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমোশন পর্যায়ে যাওয়ার যে কথা ছিলো তাও না হওয়া যানজটের একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া অবৈধ পার্কিংও যানজটের সৃষ্টি করছে।
একাত্তর/আরএ
