জেলা প্রশাসককে নয়, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাকে জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার করার প্রস্তাব দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, সরকার বা কোন পক্ষের দিকে না তাকিয়ে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে হবে।
বুধবার (৬ এপ্রিল) সোয়া ১১টার দিকে কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ শুরু হয়। এতে অংশ নেন ২২ জন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক। যদিও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ৩৪ জনকে।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, নির্বাচনে সব দলের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকার কে হবে সে বিষয়ে কমিশনকে এখনই ভাবতে হবে বলেও বৈঠকে বলেন তারা।
ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, সারাদেশে একদিনে কেন নির্বাচন করতে হবে? বিভিন্ন জেলা ভাগ করে নির্বাচন করতে পারলে ভালো হয়। পর্যায়ক্রমে কয়েকদিনে নির্বাচন করলে ভোট সুষ্ঠু করা সম্ভব।
তিনি বলেন, নির্বাচনে বেশিরভাগই দায়িত্ব পালন করেন প্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনরা। যেই জেলায় নির্বাচন হয়, সেই জেলার সরকারি কর্মকর্তারা ভোটের দায়িত্ব পালন করেন। যদি এরকমই হয় তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকে।
কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আপনাদের আরও হোমওয়ার্ক করতে হবে। প্রত্যেক প্রার্থীদের নিয়ে আপনাদের হোমওয়ার্ক করতে হবে। প্রত্যেক নির্বাচনে তারা কিভাবে এতো ভোট পায়। এটার কারণ বের করতে হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে অবশ্যই বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে উদ্যোগ নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন করার দায়িত্ব ইসির। এজন্য বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে ইসির এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সবার আগে সাধারণ জনগণকে আস্থায় আনতে হবে। সাধারণ জনগণকে আস্থায় আনতে না পারলে গ্রহণযোগ্য ভোট হবে না। সব দলকে নির্বাচনে আনার পাশাপাশি জনগণকেও আস্থায় এনে ভোটের মাঠে আনতে হবে।
সংলাপে যারা অংশ নিয়েছেন তারা হলেন: আনিসুল হক প্রথম আলো, সোহরাব হাসান প্রথম আলো, অজয় দাস গুপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক, দুলাল আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মানবকন্ঠ, হাশেম রেজা সম্পাদক আমার সংবাদ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ চৌধুরী, বিভু রঞ্জন সরকার সিনিয়র সাংবাদিক, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

ডেইলি অবজারভার অনলাইন ইনচার্জ কাজী আব্দুল হান্নান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব কামাল, ভোরের ডাক সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, প্রতিদিনের সংবাদ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, আজকের পত্রিকা সম্পাদক ড. মো. গোলাম রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ডেইলি স্টারের এক্সিকিউটিভ এডিটর সৈয়দ আশফাকুল হক, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।
আরও পড়ুন: আদালতে নেওয়া হলো বিএনপি নেতা ইশরাককে
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ শিক্ষক সমাজ এবং ২২ মার্চ বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে দুই ধাপে সংলাপে বসে ইসি। যদিও এ দুই ধাপের সংলাপে আমন্ত্রিতদের অর্ধেকের বেশি অনুপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালে কে এম নুরুল হুদা কমিশনও দায়িত্ব নেয়ার পর সমাজের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল। ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে ওই সংলাপ শুরু হয়েছিল।
একাত্তর/আরএ
