অবশেষে জামিন পেলেন কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জের বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। দু'বার জামিন আবেদন নাকচ হবার পর রোববার শুনানি শেষে মুন্সিগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ মোতাহারাত আক্তার ভূঁইয়া তাকে জামিন দেন। জামিন আদেশে সন্তুষ্টি জানিয়ছেন হৃদয় মণ্ডলের পরিবার ও আইনজীবীরা।
এদিন কথা ছিল সকাল সাড়ে দশটায় হবে শুনানি। কিন্তু নির্ধারিত আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন ছুটিতে থাকায় দুপুরে এই জামিন শুনানি শোনেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাহারাত আক্তার ভূঁইয়া। ১২ টা ৫৪ থেকে টানা ২০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক ৫ হাজার টাকা বন্ডে হৃদয় মণ্ডলকে জামিনের আদেশ দেন। এর আগে ২৩ ও ২৮ মার্চ দুদফা আদালতে হৃদয় মণ্ডলের জামিন নামঞ্জুর হয়।
গত মঙ্গলবার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন হৃদয় মন্ডলের আইনজীবী হৃদয় মণ্ডলের আইনজীবী শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। সেদিন মামলাটিতে আসামির জামিন শুনানি ১০ এপ্রিল শুনানির জন্য ধার্য করেন আদালত।
হৃদয় মন্ডল ধর্ম অবমাননা করেনি-দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবে মামলাটিকে আখ্যায়িত করে অভিযুক্তের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, , জামিন দিলে হৃদয় পলাতক হবেন না, যে কোন শর্তে জামিন দেয়ার আহ্বান। ছাত্র শিক্ষকের আলাপ অবমাননা হতে পারে না, ক্লাস পাবলিক প্লেস না। কথোপকথনের রেকর্ড লিখিত আকারে জমা দেয়া হয়েছে। এতে কোন ধর্ম অবমাননা নেই।
আইনজীবীরা আরও বলেন, ক্লাসে কাউকে উত্তেজিত করে রেকর্ড করাটা বরং ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে অপরাধ। এ নিয়ে প্রধাণ শিক্ষক পরিচালনা বোর্ড নিয়ে বসবে। তা না করে একজন ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে মামলা করানো ষড়যন্ত্র। তাকে সরিয়ে অন্য কাউকে ১০/১৫/২০ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগের ষড়যন্ত্র।
অন গুড ফেইথ হৃদয় মন্ডল এই কথাগুলো বলেছেন। তিনি অবমাননা করেননি। ইলেকট্রিশিয়ান না শুনেই মামলা করেছে। শুধু উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য এই মামলা করা হয়েছে।
এদিকে হৃদয় মণ্ডলের জামিন মঞ্জুরের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের আদেশই শিরোধার্য।
উল্লেখ্য, ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ক্লাসে ছাত্রদের সাথে কথোপকথনের একটি রেকর্ড ছড়ানোর পর হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে আসাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একাত্তর/এসএ
