পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শাহবাজ শরিফ। সোমবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করে। শাহবাজ শরিফের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। এর আগে সভা থেকে ওয়াকআউট করে ইমরানের দল পিটিআই।
শাহবাজের নিজের দল মুসলিম লিগ-নওয়াজের পাশাপাশি পাকিস্তান পিপলস পার্টি, মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমলসহ বেশ কয়েকটি দলের সমর্থন পেয়েছেন। তবে জাতীয় পরিষদের সবচেয়ে বড় দল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ গণপদত্যাগ করে।
তবে ইমরান মন্ত্রিসভার সদস্য শাহ মেহমুদ কুরেশি রোববার পিটিআই দলের হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করেছিলেন। কিন্তু দলের ভেতরে ভাঙন আঁচ করে শেষ পর্যন্ত সভা থেকে ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নেন ইমরান অনুগামীরা।
পিএমএল-এন নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রী পদে শাহবাজের নাম আলোচনায় এসেছিল পাঁচ বছর আগেই। কিন্তু সে সময় ভাইকে বঞ্চিত করে নওয়াজ বেছে নিয়েছিলেন তার বিশ্বস্ত শাহিদ খকন আব্বাসিকে।
সোমবার (১১ এপ্রিল) নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় এমএনএ আয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে। এর আগে সাময়িক বিলম্বের পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং নাত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। এসময় অধিবেশন পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি।
স্থানীয় সময় দুপুর দুটায় পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হবার পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোটাভুটিতে শাহবাজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কারণ তার আগেই সরে দাঁড়ান কুরেশি। ফলে ভোটে শাহবাজকে আর কোন ধরনের লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়নি।
পার্লামেন্টের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনই ছিলো একমাত্র কর্মসূচি। ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ১৭২ সদস্যের সমর্থন লাগে, সেখানে ১৭৪ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন শাহবাজ। তিনি পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আর্বিভূত হলেন।
সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ দুর্নীতির দুই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে লন্ডনে চলে যাওয়ার পরই তার দল পিএলএম-এন পরিচালনার দায়িত্ব পান শাহবাজ। জেনারেল পারভেজ মুশাররফের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থানের পর পাকিস্তান ছেড়ে চলে যান তিনি।
২০০০ সালে সৌদি আরবে নির্বাসনে থাকতে শুরু করেন তিনি। ২০০৭ সালে শাহবাজ আবার পাকিস্তানে ফেরেন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করতে। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জিতে আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। তৃতীয় মেয়াদে শাহবাজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন ২০১৩ সালে।
শাহবাজের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ বা পিএমএলএন দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধীদল হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। শুরু থেকে ইমরান খানকে কঠিন সময় দিতে শুরু করেন নানা ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে। কাছে টানের ইমরানবিরোধী পক্ষকে।
মনে করা হয় শাহবাজের দক্ষ বনিবনাতে ইমরান খানকে হটাতে তিনি অন্যান্য দলগুলোকে এক ছাড়ার নিতে আনতে সফল হয়েছিলেন। ডান ও মধ্যপন্থী থেকে শুরু করে বাম ঘরনাকেও তিনি এক জোট করতে সফল হন। তারই ফলশ্রুতিতে গদি হারাতে বাধ্য হন ইমরান।
পার্লামেন্টে নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণে শাহবাজ বলেন, পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সফলতা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অশুভর উর্ধ্বে শুভর জয় হয়েছে।
শাহবাজ শরিফ এখন একটি নতুন সরকার গঠন করবেন। ২০২৩ সালের অগাস্টে পাকিস্তানে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। এতো দিন শাহবাজ ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। এখন তিনিই দেশটির সরকার প্রধান আর্বিভূত হলেন মাত্র কয়েকদিনে নাটকীয়তায়।
