হাওরে দেখা দিয়েছে ধানকাটার শ্রমিক সংকট। যে কারণে ধান প্রক্রিয়াজাত খরচও বাড়ছে কৃষকের। তারা বলছেন কাটা ও ঝাড়া শেষ করতে আরো এক-সপ্তাহ লাগবে। তাই এই সপ্তাহটি গোটা হাওরের ধানের জন্যে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গোটা হাওরে এখনো অর্ধেক জমির ধান কাটা বাকি আছে।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার তলার হাওরে পানিতে ডুবে আছে অন্তত ৫ হাজার একর বোরো জমির ধান। আধা পাকা সেই ধানই কেটে নিচ্ছেন কৃষক। এর বিনিময়ে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে চড়া মজুরি।
কৃষকরা বলছেন, ধার দেনা করে আবাদ করা ফসলের মান ও বিক্রি নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
হাওরে এখন পর্যন্ত কাটা হয়েছে ৪৬ ভাগ। বাকি ধান রক্ষায় তাই বাঁধ নির্মাণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামূল হক খান বলেন, যেসব জায়গায় বেড়িবাঁধ হয়নি, সেখানেই সমস্যা হয়েছে। অতি দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাই।
বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক, বৃষ্টি আর ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির শঙ্কার মধ্যেই নেত্রকোণার হাওরে ধান কাটছেন কৃষকরা।পাশাপাশি চলছে বিভিন্ন ফসল রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতের কাজ।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ২৯ ও হাইব্রিড জাতের ধান পাকে ধীরে তাই পুরো ধান কাটতে আরো সপ্তাহখানেক লাগবে।
নেত্রকোণার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ এম মোবারক আলী বলেন, যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ধান কাটা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, আমরা কৃষকের ধান রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের হাওরে এখন পর্যন্ত ৯৪ হাজার হেক্টর জমির ধান কেটেছেন কৃষকরা। এখন চলছে ধান শুকানোর কাজ। এই সপ্তাহেই হাওরের সব জমির ধান কাটা শেষ হবে।
একাত্তর/আরএ
