কৃত্রিমভাবে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে সংকট সৃষ্টি করে তেল মজুদ করার সারাদেশে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এবার শেরপুর জেলাজুড়েই শুরু হয়েছে ভোজ্য তেল জব্দে অভিযান। এতে করে পৃথক পৃথক অভিযানে অন্তত ১৫ হাজার লিটার মজুদকৃত সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।
তথ্য মতে, শেরপুর সদরের গাজীরখামার বাজারের সাথী ষ্টোর নামে একটি খুচরা বিক্রেতার দুইটি গোডাউন ও বাসা থেকে ৫ হাজার লিটার, ঝিনাইগাতীর তিনানী বাজারের সততা স্টোর ও নাজমুল এন্ড ব্রাদারর্স প্রায় ৪ হাজার লিটার, শ্রীবরদী পৌর এলাকার হাজী ট্রেডার্সে ১ হাজার লিটার, নালিতাবাড়ীর রাজনগর টেংরাখালি এলাকার দুই সহোদর ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে।
দুপুরে, সদর উপজেলার গাজীর খামার বাজারের সাথী ষ্টোর নামে একটি খুচরা বিক্রেতার দুইটি গোডাউন ও বাসা থেকে এ সয়াবিনগুলো জব্দ করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসময় অবৈধভাবে তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির দায়ের ওই দোকানিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিকেলে, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আল মাসুদ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়নাল আবেদিনের নেতৃত্বে উপজেলার তিনানী বাজারের সততা স্টোর ও নাজমুল এন্ড ব্রাদারস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ হাজার লিটার মজুদকৃত সয়াবিন জব্দ করা হয় এবং অবৈধভাবে মজুদ করার কারণে ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, দুপুরে শ্রীবরদীর পৌরশহর এলাকায় হাজী ট্রেডার্স নামে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে একই অভিযোগে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়। শ্রীবরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউর রহমান এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে, গতকাল নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর টেংরাখালি এলাকার রাজনগর গ্রামে ব্যবসায়ী এনামুলের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলেনা পারভীন।
আরও পড়ুন: বিএসএফের হাতে আটকের তিন বছর পর দেশে ফিরলেন পাঁচজন
অভিযানকালে এনামুলের নামে আমদানীকৃত কার্টন ভর্তি প্রায় ৫ হাজার লিটার বোতলজাত ভোজ্যতেল মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়। যে ব্যবসা মূলত এনামুলের সহোদর দুই ভাই আনোয়ার হোসেন ও নজরুল ইসলাম সেলিম পরিচালনা করেন। পরে ভোজ্যতেল মজুদ করার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শেরপুরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, শেরপুরে যেনো তেলের কৃত্রিম সংকট না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি, এজন্য জরিমানাসহ জব্দকৃত তেলগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খোলা বাজারে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ
