কে এই নূপুর শর্মা, যার কথায় অস্বস্তিতে ভারত

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ০১:৫৩ পিএম

মহানবী হযরত মুহাম্মদকে তাঁর একটি মন্তব্যে এখন উত্তাল ভারতের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্ব। আরব দেশগুলোর সমালোচনায় চাপে আছে মোদী সরকার। শুক্রবার ভারত কেঁপেছে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভ মিছিলে। বিক্ষোভ হয়েছে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও। 

চারদিকের চাপে দলের নেতাদের টিভি টকশোতে যেতে মানা করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। কিন্তু যার মন্তব্যে এতো কিছু, সেই নূপুর শর্মা আসলে কে? কী তার পরিচয়। এনিয়ে নানা ধরনের গল্প আসছে সামাজিক মাধ্যম থেকে গণমাধ্যমেও। 

সোজা কোথায় নূপুর শর্মা ছিলেন বিজেপির মুখপাত্র। দলটির নীতি এবং আদর্শ চাউর করে বেড়ানোই তার একমাত্র কাজ। এজন্য তিনি টিভি টকশো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেমিনারে বিজেপির নীতি-আদর্শের প্রচার করতেন। যদিও বিতর্কের মুখে এখন তার সেই পদ নেই। 

image


এক টিভি টকশোতে নবীজীকে নিয়ে নূপুরের এক মন্তব্যের পরই ভারতের কানপুরে শুরু হয়ে যায় উত্তেজনা। প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন বহু মানুষ। চাপে পড়ে দিল্লি বিজেপির সভাপতি আদেশ গুপ্ত জানান, নূপুরকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরানো হচ্ছে। তাঁকে বহিষ্কার করাও হয়।

কে এই নূপুর শর্মা? দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিন্দু কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করার পর আইনের উপর পড়াশুনা করেন নূপুর। লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে আইনে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। কলেজে পড়ার সময়ই রাজনীতিতে পাঠ নেন এই বিজেপি নেতা। 

২০০৮ সালে নূপুর শর্মা হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ আন্দোলনের ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হবার মাধ্যমে রাজনীতিতে ঢোকেন।

image


এরপর ইংল্যান্ডে পড়াশুনা শেষ করে ২০১১ সালে ভারতে ফেরার পর রাজনীতির জগতে নূপুরের দ্রুত উত্থান হতে থাকে। সুবক্তা এবং রূঢ়ভাষী হিসাবে পরিচিত নূপুর শর্মা ইংরেজি এবং হিন্দি দুই ভাষাতেই দক্ষ। অনর্গল কথা বলার বিরল প্রতিভার অধিকারী তিনি। 

দৃঢ়তার সাথে তার মতামতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিজেপির কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৩ সালে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির মিডিয়া কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ একটা পদ দেয়া হয়। ৩৭ বছর বয়সী এই আইনজীবী দ্রুত দলের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

image


২০১৫ সালে যখন দিল্লির বিধানসভার নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন নূপুর শর্মা ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিপক্ষে বিজেপির প্রার্থী। ভোটে না জিতলেও প্রচার ও প্রচারণায় দারুণ দক্ষতা দেখিয়ে আলোচনায় ছিলেন নূপুর শর্মা। 

এরপরই তিনি দিল্লিতে বিজেপি দলের সরকারি মুখপাত্র নিযুক্ত হন এবং ২০২০ সালে তাকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র করা হয়। মোদীর সরকারের পক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেবার জন্য রাতের পর রাত টেলিভিশনের বিতর্ক অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন।

২০০৮ সালের নভেম্বরে সংসদ হামলায় অভিযুক্ত এসএআর গিলানিকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে এই বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে। গিলানির মুখে থুতু ছিটিয়ে ছিলেন নূপুরের সঙ্গী। সেই সময়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসেন এই বিজেপি নেত্রী।

image


দিনটি ছিলো ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর। একটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন এসএআর গিলানি। এবিভিপি-র কর্মীদের নিয়ে সভাস্থলে পৌঁছন নূপুর। শুরু হয় ভাঙচুর। নূপুরকে দেখা যায়, বিভিন্ন ভাবে গিলানিকে অপদস্থ করতে।

আরও পড়ুন: দুই ইউক্রেনিয় শহরে দেয়া হচ্ছে রাশিয়ান পাসপোর্ট

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি নূপুর শর্মাকে। তরতর করে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। বিজেপি মুখপাত্র হয়েই টিভি টকশোতে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেন। এসব শোতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চিৎকার থেকে শুরু করে গালিগালাজও করতেন নূপুর শর্মা। 


একাত্তর/এসজে


বিয়ের সানাই বাজছিল ঠিকঠাক, কাজিও কবুল পড়িয়ে দিয়েছিলেন অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। কিন্তু আসল টুইস্টটা জমা ছিল দুপুরের খাবারের টেবিলের জন্য! পাতে খাসির মাংসের বদলে কেন মুরগির মাংস পরিবেশন করা...
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এবার তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সরিয়ে দিলো।
ভারতের ছাত্র-যুবদের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি এবার এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন রূপ নিল দিল্লির বুকে। সপ্তাহজুড়ে খবরের শিরোনামে থাকার পর, আজ শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে...
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত মঙ্গলবার কলকাতার রাস্তায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর