প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর নিরাপত্তা শিথিলের সুযোগে মাওয়া প্রান্তে হাজারও মানুষ সেতুতে উঠে পড়ে। দলে দলে মানুষ পায়ে হেটে সেতু পাড়ি দেবার চেষ্টা করে।
তবে এ সময় পদ্মা বহুমুখী সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কৌতূহলী জনতাকে কোন বাধা দেয়নি।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ছিলো পদ্মা সেতু ও আশপাশের পুরো এলাকা জুড়ে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে সেতু উদ্বোধনের পরই গড়িবহর নিয়ে জাজিরা প্রান্তে যান প্রধানমন্ত্রী।

তার গাড়িবহর সেতু পেরিয়ে যাবার পর মাওয়া প্রান্ত শিথিল হয় নিরাপত্তা। আর সেই সুযোগে বেলা একটার দিকে সেতুর দিকে ছুটে যায় হাজারো মানুষ।
যে যেভাবে পেরেছে, সেতুতে উঠেছে জনতা। আশপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে তারা সেতুর সড়কে উঠে পড়েন। সেতুতে গড়াগড়ি খেয়ে স্লোগান দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মানুষ।
আনন্দে দিশাহারা হয়ে জনতা পদ্মার বেষ্টনী টপকে সেতুতে উঠে পড়ে। দলে দলে মানুষ হেঁটে সেতুতে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। সেলফি তুলতে থাকেন একের এক।
নিয়ম না থাকলেও এর আগেই বেশ কিছু গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে সেতুতে উঠতে দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় হেঁটে সেতুতে উঠতে থাকেন মানুষ।
সেতুর উদ্বোধন ফলকেও ঢুকে পড়ে কৌতূহলী জনতা। কেউ কেউ চড়ে পড়ে ইলিশের ভাস্কর্যে। কেউ পা ভেজায় জলাধারে। কৌতূহলী জনতা বলছে তারাও চান ইতিহাসের অংশ হতে।

প্রায় ঘণ্টা খানেক পর অতিথিদের ফেরার সময় হওয়ায় তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরিয়ে দেয়া হয় মানুষকে। এ সময় সেখানে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়।
সেতুতে ওঠার অপেক্ষায় জাজিরা প্রান্তেও ভিড় জমায় হাজারও মানুষ। বৃষ্টিতে ভিজেই সেতুতে ওঠার অপেক্ষায় ছিলো তারা। তবে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকায় কেউ সেতুতে উঠতে পারেনি।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, পদ্মা সেতুতে করা যাবে না হাঁটাহাঁটি। থামানো যাবে না গাড়ি।
