রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাত্ত্বিক গুরুর মেয়ে দারিয়া দুগিন শনিবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কাছে এক গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন। এ হামলার জন্য ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা 'স্পেশাল সার্ভিস'কে দায়ি করেছে মস্কো।
সোমবার এক বিবৃতিতে রুশ গোয়ান্দা সংস্থা কেজিবি'র প্রধান উত্তরসূরি রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানায় যে, এ হামলার সাথে ইউক্রেনের নিরাপত্তাবাহিনী জড়িত।
এফএসবি জানায়, ইউক্রেনের নাগরিক নাটালিয়া ভভক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এস্তোনিয়ায় পালিয়ে যায়।
সংস্থাটি আরও জানায়, ওই ব্যক্তি (ভভক) এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে জুলাই মাসে রাশিয়ায় আসেন এবং একই হাউজিং ব্লকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেনে। ওই ব্যক্তি দুগিনের জীবনধারা নিয়ে গবেষণা করে আক্রমণের প্রস্তুতির জন্য এক মাস কাটিয়েছেন।

রুশ গোয়েন্দা সংস্থাটি ভভকের সামরিক আইডি কার্ডসহ নজরদারি ভিডিও প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার দাবি, হামলাকারী ইউক্রেনের আজভ রেজিমেন্টের অন্তর্ভুক্ত।
যদিও সোমবার (২২ আগস্ট) ওই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে কিয়েভ। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক রাশিয়ার এ অভিযোগকে "প্রপাগান্ডা" বলে অভিহিত করেছেন।
৬০ বছর বয়সী আলেকজান্ডার দুগিনকে 'পুতিনের মাথা' বা 'তাত্ত্বিক গুরু' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরাসরি রুশ সরকারের হয়ে কাজ না করলেও তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: বিশ্বে করোনা: বেড়েছে মৃত্যু, আক্রান্ত কমেছে
শনিবার সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠান থেকে দুগিন ও তার মেয়ের একসঙ্গে একই গাড়িতে করে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি আলাদা গাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। গাড়ি বিস্ফোরণের সময় ২৯ বছর বয়সী দুগিন কন্যা একাই গাড়িতে ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সম্ভবত দুগিনই ছিলেন এই হামলার মূল লক্ষ্য। কারণ ওই গাড়িতে করেই তার ফেরার কথা ছিল।
রুশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দারিয়া দুগিন একজন সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করতেন।
একাত্তর/আরবিএস
