কুমিল্লার রাতের আধারে দুই কৃষকের জমির সাড়ে চারশ’ ফলজ ও সবজি গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আল আমিন জানান, তার বাড়ি উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামে। বাড়ির পাশে তিনি ৩৫ শতক জমিতে ড্রাগন বাগান করেছেন। গেল সোমবার দুর্বৃত্তরা তার বাগানের ১৮৪টি ড্রাগন গাছ কেটে দেয়। এ ঘটনায় তিনি কৃষি অফিসকে জানিয়েছিলেন।
পরে সকালে প্রতিবেশির মাধ্যমে জানতে পারেন তার ড্রাগন বাগানে আবারো গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এবার আরো দুইশ’ ড্রাগন গাছ কেটেছে দুর্বৃত্তরা। গাছগুলোতে ফুল-ফল ছিলো। দুই দফায় কাটা হয়েছে ৩৮৪টি গাছ।
খবর পেয়ে ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সাথে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আইনগত সুবিধা পেতে যা যা করার দরকার সবই করবো।
এদিকে একই রাতে বুড়িচং উপজেলার উত্তরগ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবীরের ১৩ শতক জমিতে বেগুন ঝুলে আছে এমন ৭২টি গাছ উপড়ে ফেলছে দুর্বৃত্তরা।
হুমায়ুন কবীর বলেন, অনেক টাকা খরচ করে জমিতে বেগুন গাছ রোপন করেছিলাম। জমিতে মোট সাতশ’ গাছ আছে। প্রতিটি গাছে ছোট ছোট শিংনাথ বেগুন আছে গড়ে ১৫ থেকে ১৬টি করে। দুর্বৃত্তরা আমার বেগুন গাছগুলো উঁপড়ে ফেলেছে। এখন আমি খুব অসহায় হয়ে গেছি। এখন আইনগত পদক্ষেপ নিলে যদি বাকি গাছগুলো উঁপড়ে ফেলে সে ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছি।
আরও পড়ুন: ইছামতি নদীর প্রবল ভাঙনে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকিতে
বুড়িচং উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, খবর পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করেন। আমরা কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য যা করার দরকার আমরা করবো। এছাড়াও তারা যেন আইনি পদক্ষেপ নেয় সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
কুমিল্লা বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, আমরা ঘটনা জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একাত্তর/আরএ
