পাকিস্তানে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। গত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু এ বন্যায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ছয়শ' ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১২ হাজার আটশ' ৬৫ জন।
পাকিস্তানের দুর্যোগ প্রশাসনের বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রশাসনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিন্দ প্রদেশে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে। প্রদেশটিতে সাতশ' ৪৭ জন নিহত হয়েছে।
এর আঘাতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অর্ধেক কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও পাক প্রধানমন্ত্রী শাবাজ শরিফ।
চলতি মাসে দুইদিনের পাকিস্তান সফরে গিয়ে গুতেরেস বলেছেন, পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন ভূমিকা না রাখা সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি।
মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশই প্লাবিত হয়েছে, ঘরছাড়া হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। নষ্ট হয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ ফসল, ধ্বংস হয়ে গেছে বহু অবকাঠামো। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ।
এছাড়া মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষাখাত। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ অঞ্চলের স্কুল-কলেজ। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ঝড়ে পড়তে পারে বহু শিশু।
এই বিপর্যয়ের কারণে চলতি অর্থবছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত পাঁচ শতাংশ থেকে অর্ধেক কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ব্রিটিশ এমপি রূপা লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কার
এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
পাকিস্তানের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ১৬ কোটি ডলারের জরুরি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। এরইমধ্যে চীনসহ একাধিক দেশ সাহায্য নিয়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
