নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। তার বিতর্কিত মিনি-বাজেটের জন্য সোমবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ জনগণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, দেড় মাসেরও কম সময় আগে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এরইমধ্যে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। নিজের প্রধানমন্ত্রীত্ব রক্ষায় তাকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
সোমবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার দায় স্বীকার করতে চাই এবং যে ভুলগুলো হয়েছে তার জন্য দুঃখিত। আমি উচ্চ করের সমস্যা মোকাবেলায় জনগণকে সাহায্য করার জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা খুব বেশি এবং খুব দ্রুত চলে (অর্থনৈতিক সংকটে) গিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, আমি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি নতুন কৌশলসহ একটি নতুন চ্যান্সেলর নিয়োগ করেছি।

ট্রাসের নীতির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রতিবাদ

লিজ ট্রাস জানান, তিনি এই দেশের জন্য কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার সরকার সোমবার বাজারে নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে গত মাসে জারি করা ঋণ-জ্বালানির সঙ্গে যুক্ত প্রায় সকল ধরনের কর কমিয়েছে।
সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজের ভুল করার জন্য ক্ষমা চাওয়ার পাশপাশি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথাও জানান। এ সময় তিনি বলেন, অল্প সময়ের জন্য তার প্রধানমন্ত্রীত্ব ‘নিখুঁত ছিল না’, কিন্তু তিনি নিজের ভুল ‘শুধরে’ নিয়েছেন।
এদিকে ডাউনিং স্ট্রিটের সতর্কতার পরও ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা এই সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করবেন বলে ডেইলি মেইল জানিয়েছে। এর ফলে আবার সাধারণ নির্বাচনের দিকে যেতে পারে ইউরোপের প্রভাবশালী এই দেশটি।
আরও পড়ুন: জেলা পরিষদের ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাসের নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির শতাধিক আইনপ্রণেতা তার প্রতি অনাস্থার চিঠি দলীয় কমিটির প্রধান গ্রাহাম ব্র্যাডিকে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। দলীয়ভাবে অনাস্থা আনতে এই শতাধিক এমপি গ্রাহাম ব্র্যাডিকে তাগাদা দেবেন।
উল্লেখ্য, কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড় মাস আগে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের দৌঁড়ে জয়ী হন লিজ ট্রাস। কিন্তু তার বিতর্কিত মিনি-বাজেটের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে ব্রিটিশ অর্থনীতি।
একাত্তর/আরবিএস
