সিরাজগঞ্জে ট্রাকের চালক ও সহকারীকে হত্যা করে ৪৪ ড্রাম পাম তেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০ নভেম্বর তাকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার এবং ২১ নভেম্বর (সোমবার) রাতে আদালতে তোলা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম হ্যাপি। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলোকদিয়া থানার বাসিন্দা।
এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি এলাকায় নাটোরের কিষোয়ান এগ্রো লিমিটেডের ট্রাক চালক সাহাব উদ্দিন (৫০) ও সহকারী ইলিয়াসকে (২০) হত্যা করা হয়। পরে ৪৪ ড্রাম পাম তেল নিয়ে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই দিন ঢাকার মেঘনা ফ্রেস কোম্পানি থেকে বিকাল চারটার সময় ৬০ ড্রাম সুপার পাম্প তেল নিয়ে নাটোরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে তারা চোরাই তেল চক্রের খপ্পরে পড়েন। পরে তাদের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি এলাকায় হত্যা করা হয়। হত্যার পর ত্রিপল দিয়ে ট্রাকের ভেতরে ঢেকে রেখে চক্রটি ৪৪ ড্রাম তেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে শাহজাদপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার করে। কিষোয়ান লিমিটেডের পক্ষে মো. মামুন হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ পিবিআই এর পুলিশ সুপার রেজাউল করিম ও তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, রোববার রাতে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছে। মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটনসহ এ পর্যন্ত পাঁচ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি আদালতে ১৬৪ জবানবন্দি দিয়েছেন। ছিনতাই হওয়া ১৯ ড্রাম সুপার পাম্প তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, আসামিদের দেয়া তথ্য জানা যায়, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার চোরাই তেল চক্রের একজনের কাছে তেল বিক্রির জন্যই ট্রাকটি নাইমুড়িতে যায়। কিন্তু আগে থেকে ওত পেতে থাকা চক্রটি ড্রাইভার ও সহকারীকে জিম্মি করে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের হত্যা করে।
আরও পড়ুন: ছিনতাইকারীকে ধাওয়া দিয়ে ধরে থানায় দিলো তরুণী
আরও জানা যায়, এ মামলার মূল আসামি হ্যাপি। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। কিন্তু তার প্রকৃত ঠিকানা সেই মুহূর্তে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে আরও গভীর তদন্ত করে হত্যায় জড়িত চুয়াডাঙ্গা আলোকদিয়া থানার রফিকুল ইসলাম হ্যাপিকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে তিনি ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেপ্তারে খানিকটা সময় লাগে। সবশেষ গোয়েন্দা তথ্যে ২০ নভেম্বর খুলনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, ইতিমধ্যেই হ্যাপি স্বীকার করেছেন যে, লোহার রড দিয়ে চালক ও সহকারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
একাত্তর/এসি
