বিএনপির গণমিছিলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাঠে নেমেছে নিবন্ধন হারানো যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামি। এর মধ্যে দিয়ে অনেক দিন পর প্রকাশ্যে এলো দলটি। লাঠি সোটা হাতে মৌচাক এলাকায় জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জামায়াত শিবির কর্মীরা। সংঘর্ষে আহত হন ১০ জন পুলিশ সদস্য। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) গণতন্ত্র মঞ্চের সাত দল, ১২ দলীয় জোট ও সমমনা ১১ দলীয় জোট একই কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করেছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট থেকে জামায়াতের গণমিছিল শুরু করার কথা থাকলেও জুমার নামাজ থেকে মাগরিব পর্যন্ত সেখানে দলটির নেতাকর্মীদের কোনো জটলা দেখা যায়নি। এ দিন ওই এলাকায় পুলিশ ছিল সতর্ক পাহারায়।

জুমার নামাজের ঘণ্টা দেড়েক পর মালিবাগ রেলগেইট এলাকা থেকে জামায়াত কর্মীরা মিছিল করে মৌচাকের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তখন পুলিশ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জামায়াত শিবিরের কর্মীদের অনেকের হাতেই ছিলো লাঠি। মালিবাগ এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
রমনা বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, মিছিল করার কোনো অনুমতি তাদের ছিল না। কিন্তু রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মিছিল করছিল। বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে।

এদিকে, রাজধানীর এফডিসি এলাকা থেকে মিছিল বের করে লিবারেল ডেকোক্রেটিক পার্টি এলডিপি। দলটির চেয়ারম্যান অলি আহমেদের নেতৃত্বে মিছিলটি মগবাজার গিয়ে শেষ হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মিছিলে যোগ দিতে পারেননি তিনি।
বিকেলে মিছিল শেষে আগামী ১১ জানুয়ারি অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এলডিপি। বিএনপির ১০ দফার সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে এই কর্মসূচির ডাক দেয় দলটি। মিছিলটি এফডিসি গেটে প্রধান কার্যালয়ে এলে ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে শুরু করে দুপুর ২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন অলি আহমদ।

আর প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল করে গণতন্ত্রমঞ্চের সাথে থাকা সাত দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় হয়ে কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের আগে এক সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আওয়ামী লীগ ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে, গুম করে, মামলা, হামলা করে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে।
আরও পড়ুন: গোপন বৈঠক থেকে জামায়াতের আট নারী গ্রেপ্তার
তিনি আরও বলেন, মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন আর গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে তারা ব্যালট বাক্স ভরেছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় চলে, কিন্তু সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সরকারের পতন ঘটাতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকায় তিন ঘণ্টার গণ-অবস্থানের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
একাত্তর/এসি
