রংপুরে শীতে বেশি কাবু হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:০০ পিএম

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ১৫ শিশু মারা গেছে। এদের বেশিরভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। এছাড়া, আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন আরো তিন জন।

আগুনে পোড়া রোগী রয়েছে আরো ৩৩ জন, তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই মৌসুমে আগুন এবং ঠাণ্ডা থেকে সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বলছেন, শীত থেকে বাঁচতে আগুনের ওম যেন জীবনের হুমকি না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০টি শিশু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।

চিকিৎসক ও নার্সদের দাবি, শুধু শীতজনিত রোগে এসব শিশুর মৃত্যু হয়নি। এদের কারো কারো জন্ম হয়েছিল সময়ের আগে কেউ বা কম ওজন নিয়ে জন্মেছিলো। জন্মের সময় মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণেও কেউ মারা গেছে।

সরেজমিন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দেখা যায়, প্রতিটি শয্যায় একাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে রাখা হয়েছে। কোনো কোনো শয্যায় মায়েরা তাদের অসুস্থ শিশুসন্তান নিয়ে বসে আছেন।

শিশুর সঙ্গে থাকা অভিভাবকদের ভিড়ে নার্স ও চিকিৎসকেরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি শিশু ওয়ার্ডে দুই সপ্তাহ ধরে শিশু রোগী ভর্তির সংখ্যা শয্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

যাদের বয়স এক দিন থেকে চার বছর পর্যন্ত। শীতের আগে এই ওয়ার্ডে এভাবে এত রোগী থাকতে দেখা যায়নি। শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নবজাতকদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া দেখা দেয়। এ সময় শীতজনিত রোগ ছাড়াও নবজাতকের ক্ষেত্রে অপরিপক্ব ও কম ওজনের শিশুও ভর্তি হচ্ছে। তাদের উষ্ণতার প্রয়োজন হয় কিন্তু সে অনুযায়ী তারা উষ্ণতা পায় না।

ওদিকে বার্ন ইউনিটে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চরাঞ্চলের শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৯ রোগী নতুন করে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মারা গেছেন দুই নারী। অন্যদের শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে গিয়ে অসাবধানতায় আগুন লেগে যায়।

আরও পড়ুন: একই ধান থেকে দুই দফায় লাভ করছে মিল মালিকরা

আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, রংপুর অঞ্চলে ১৩ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। এমাসে শীতের তীব্রতা আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, এরই মধ্যে ঠাণ্ডার রোগ এবং আগুনে পোড়াদের বেশিরভাগই উত্তরের গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা। এরই মধ্যে তাদের ঠাণ্ডা ও আগুনের সর্তকতা জানানো হয়েছে।

এদিকে শীতের কারণে রংপুরের ফুটপাথের দোকানগুলোর শীতবস্ত্র বিক্রি বেড়েছে। শীতের প্রকোপের কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক শীতবস্ত্র বিতরণ করে চলেছেন।


একাত্তর/আরএ

দেশের শীতপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম পঞ্চগড়। ভৌগোলিক কারণেই এখানে প্রতিবছর শীতের তীব্রতা বেশি থাকে। এবারও চলছে শীতের দাপট। টানা চারদিন ধরে জেলায় বিরাজ করছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
সিলেটে জেঁকে বসেছে শীত। দিনভর ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারপাশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সারাদেশে টানা চারদিন কুয়াশার দাপট চলার পর বুধবার পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। কুয়াশা কিছুটা কমলেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা।
মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। উত্তরের শীতল বাতাস ও হাড়কাঁপানো শীতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য বা উপদেষ্টার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হলে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় তার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা নতুন কাউকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও...
জর্ডানে ইরানের সামরিক অভিযানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এবার মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো এবং তৎকালীন সময়ে সংঘটিত...
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চুরি ও পকেটমারির অভিযোগে একটি চক্রের ছয় নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা ও আনসার সদস্যরা। 
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর