এক মাসের দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইউক্রেনের লবণের খনিবিশিষ্ট শহর সোলেদারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। এটিকে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ' বলে অভিহিত করেছে তারা।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিজয় রাশিয়ান সৈন্যদের নিকটবর্তী বৃহত্তর শহর বাখমুত থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটিয়ে ফেলতে সহায়তা করবে।
এর আগে ইউক্রেন জানিয়েছিল, সোলেদারে তাদের বাহিনী এখনও লড়াই করছে এবং সেখানে রাতভর সক্রিয় যুদ্ধ হয়েছে।
সোলেদারের চারপাশে লড়াইটি এখন পর্যন্ত যুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াইগুলোর একটি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সোলেদারের জন্য লড়াই এখনও চলছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে 'তথ্য বিভ্রাট'-এর অভিযোগ করেছে তারা।
ইউক্রেনের ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যানা মালয়ার শুক্রবার বলেন, সোলেদারে যুদ্ধ অব্যাহত ছিল এবং এটি 'রাতভর উত্তপ্ত' ছিল। ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা 'সাহসীভাবে রক্ষণভাগ ধরে রাখার চেষ্টা করছিল' দাবি করে তিনি বলেন, এটি যুদ্ধের একটি কঠিন পর্যায়ে ছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সোলেদারের আঞ্চলিক গভর্নর পাভলো কিরিলেনকো জানান, ১৫ শিশুসহ ৫৫৯ জন বেসামরিক নাগরিক শহরে রয়ে গেছে এবং তাদের সরানো যায়নি।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র সের্হি চেরেভাতি বলেছেন, রাশিয়া তার সেরা ভাড়াটে যোদ্ধা এবং অন্যান্য ইউনিট সোলেদারে পাঠিয়েছে।
তবে সোলেদার রাশিয়ার হাতে চলে গিয়েছে এমন দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, 'আমরা আর কোনও বিবরণ দেব না কারণ আমরা আমাদের যোদ্ধাদের কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ করতে চাই না'।
আরও পড়ুন: চীনে করোনা সংক্রমণ ৯০ কোটি ছাড়ালো
রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর জন্য শহরটির তাৎপর্য নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। তবে সোলেদার দখল করতে পারলে সেটিকে সম্ভবত রাশিয়ার ১০ মাসের যুদ্ধে কয়েকমাসের ব্যর্থতা এবং বিপর্যয়ের পরে একটি বিজয় হিসাবে স্বাগত জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার বলছে, সম্ভবত রাশিয়ান বাহিনী সোলেদার দখল করেছে। তবে এর মানে এই নয় যে তারা এখনই বাখমুতকে ঘিরে ফেলতে সক্ষম হবে।
একাত্তর/এসজে
