বরগুনায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মতিয়ার রহমান, কর্নধার মিস্ত্রি ও মনোহর মিস্ত্রিকে হত্যাসহ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তিন রাজাকারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের একটি দল।
র্যাব-৪ এর কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, সোমবার জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন, চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছহেরাবাদ এলাকার ফজলুল হক খান ফজলু খলিফা (৬৯), মো. ইউসুফ আলী ওরফে ইউসুফ মুন্সী (৭৪), এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ছোট টেংড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক (৬৮)।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলার বাদি মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অপরাধে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করায় মন্নান হাওলাদারকে প্রধান অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সুলতান আহমেদ, ফজলুল হক খান, ইউসুফ মুন্সী, আ. রাজ্জাক ও হযরত আলী। মামলার পর পরই প্রধান অভিযুক্ত আ. মান্নান হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় চার বছর পর অন্য অভিযুক্ত এই তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটিতে এর আগে আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই আবদুল মান্নান গ্রেপ্তার হন।
পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, গ্রেপ্তারদের থানা আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
আরও পড়ুন: শেষবার শ্যামপুকুরের বাড়িতে সমরেশ মজুমদার
মামলার আবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৯ জুন মামলার চার নম্বর সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন অধিকারীকে রাজাকার জালালের বাড়ির সামনের ওয়াপদার ওপরে হত্যার উদ্দেশে গলায় ছুরি চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরদিন ৩০ জুন চিত্তরঞ্জন অধিকারীকে হত্যা করতে না পেরে কাকা সুরেন্দ্র নাথ অধিকারীকে হত্যা করে লাশ গুম করে। ১৮ আগস্ট বাদির বাবা মতিয়ার রহমান ও এক নম্বর সাক্ষী মনমথ রঞ্জন মিস্ত্রির বাবা মনোহর মিস্ত্রি, কাকা কর্নধর মিস্ত্রিকে দিনের বেলা গুলি করে হত্যা করে। পরে মনোহরের বাড়িতে আগুন দিয়ে লুটপাট করে।
একাত্তর/এসি
