শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোখা বড় ধরনের তাণ্ডব চালিয়ে গেছে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে। ঘূর্ণিঝড়ে অনেক ঘর-বাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়েছে।
মোখার তাণ্ডবে রাখাইনে কয়েক’শ মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে ওই এলাকায় কাজ করা মানবাধিকার সংস্থা। খবর: আলজাজিরা।
পার্টনার্স রিলিফ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামের এ সাহায্যকারী সংস্থাটি রাখাইন রাজ্যে নিজেদের কার্যক্রম চালায়। তারা জানিয়েছে, রাজধানী সিত্তুয়ের কাছে যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করেন তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে তাদের আশ্রয় ক্যাম্পগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের পরই ‘কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর খবর’ পাওয়া গেছে।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ও ইউনিটি সরকারের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের পরামর্শকের দায়িত্বে থাকা অং কো মো এক টুইটে জানান, শুধুমাত্র সিত্তুয়েতেই ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু ভবনের ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে ভিডিওতে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সরকারী হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে। তবে অভিযোগ, মোখার আঘাতে কতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এ বিষয়ে তথ্য নিয়ে লুকোচুরি করছে মিয়ানমার সামরিক সরকার। দেশটির মিডিয়ার ওপরও ব্যাপক বিধিনিষেধ রয়েছে এসব খবর প্রকাশে। এছাড়াও ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা তথ্য পাবার উপায় আরও দুরূহ করে তুলছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাখাইনের সিত্তুয়েতে। শহরটিতে কমপক্ষে দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। রোববার মোখা আঘাতের সময় ঘণ্টায় বাতাসের বেগ ছিল ১৫৫ মাইল (২৫০ কিলোমিটার)। গত এক দশকে এ অঞ্চলে এমন শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানেনি।
২০১৭ সালের ক্র্যাকডাউনের পর এ অঞ্চলেই মূলত ঘরবাড়ি হারানো কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপির সঙ্গে আলাপ হয়েছে এ অঞ্চলের রোহিঙ্গা শিবিরের এক নেতার। জান্তার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বার্তাসংস্থাটিকে তিনি বলেন, সিত্তুয়ের উত্তর-পশ্চিম খাউং ডোকের কার গ্রামে ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত ২৪ জন মারা গেছেন। নিচু এলাকার রোহিঙ্গা গ্রাম ও আইডিপি ক্যাম্পে আরও কয়েকজন নিখোঁজ আছে বলেও এএফপিকে জানান তিনি।
এএফপির ধারণকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, ঝড়ের তোড়ে নৌকাগুলো ভেঙে তীরে জমা হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে সেতুর মতো শক্ত স্থাপনাও।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডে হোস্টেলে আগুন লেগে নিহত ছয়
স্থানীয় স্লাইকোন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিত্তুয়েতে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৮০০ ঘর ও ১৪টি হাসপাতাল বা ক্লিনিক ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেনি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নষ্ট হয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার পর্যন্ত রাখাইনের শহরটির সঙ্গে অন্যান্য জায়গার যোগযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল।
একাত্তর/জো
