নওগাঁয় র্যাব হেফাজতে একটি ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সুলতানা জেসমিন নিহতের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।
সোমবার বিকেলে তদন্ত দলের সদস্যরা সুলতানা জেসমিনের ছেলে ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন। তবে এদিন তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
তবে তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সার্কিট হাউস চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন সুলতানা জেসমিনের মামা নাজমুল হক ও তার ভাই সুলতান মাহমুদ।

তারা বলেছেন, গত ২২ মার্চ নওগাঁর মুক্তির মোড় থেকে জেসমিনকে র্যাব সদস্যরা আটকের পর নওগাঁ হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন কি কি ঘটেছে তার বর্ণনা আমাদের কাছ থেকে শুনেছেন।
তারা বলেন, জেসমিনের বাসা থেকে জেসমিন ও মামলার বাদি এনামুলের মধ্যে বিভিন্ন অংকের টাকা লেনদেনের কাগজপত্র আমরা পেয়েছি। জেসমিন তার নিজ হাতে চিরকুটে লিখে রেখেছিলেন। চিরকুটগুলো তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ন্যায় বিচার পাবেন মন্তব্য করে তাদের আশা, উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
হাইকোর্টের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মাহমুদুল হোসাইন খানকে।
কমিটি সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, নওগাঁর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নওগাঁর পুলিশ সুপারের মনোনীত একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে।

নওগাঁর একটি ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী সুলতানা জেসমিনকে গত ২২ মার্চ আটক করে র্যাব এবং ২৪ মার্চ তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন: চলন্ত পিকআপ ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মা-মেয়ে নিহত
র্যাব পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আটকের পর তাকে কোনো ক্যাম্পে নেওয়া হয়নি। তিনি আটকের পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
র্যাবের দাবি, আটকের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেসমিনের স্বজনরা তার সঙ্গে ছিলেন।
একাত্তর/এসি
