রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর দুইটায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে একজনের ও বিকেল চারটায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, নিহত গিরি রঞ্জন ত্রিপুরা (৩৫) লংথিয়ান পাড়া ও অর্পিতা চাকমা (৫) গঙ্গারাম এলাকার রেতকাবা গ্রামের বাসিন্দা।
সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ দিনে লংথিয়ান পাড়ায় পাঁচজন মারা গেছেন। লংথিয়ান পাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ আরও ২০ জন ডায়রিয়া রোগী রয়েছে।
সাজেক ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য বনবিহারী চাকমা জানান, গত এক মাস ধরে সাজেকের লংথিয়ান পাড়া, অরুণ পাড়া, কাইজা পাড়া, রায়না পাড়া ও শিয়ালদহ বেটলিং এলাকাসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকায় আশপাশে কোনো হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় আক্রান্তরা স্থানীয় তান্ত্রিক দ্বারা চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পায়ে হেটে এতো দুর থেকে মাচালং ও উপজেলা সদর হাসপাতালে রোগী পাঠানো সম্ভব নয়।
একাত্তর টেলিভিশনে খবর প্রকাশের পর গত ৮ জুন বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনের তিনটি মেডিক্যাল টিম টানা এক সপ্তাহ চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে গত বুধবার ফিরে আসে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. অরবিন্দ চাকমা বলেন, তাদের মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা টানা এক সপ্তাহ চিকিৎসা সেবা দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ফিরে আসে। নতুন করে আরও কেউ আক্রান্ত হলে আবারো মেডিক্যাল টিম পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: খোলা জায়গায় চামড়ার বর্জ্য, দুষিত হচ্ছে ধলেশ্বরী
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার বলেন, সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই, পাহাড়ি ছড়ার পানি পান করায় বর্ষার শুরুতে এই সমস্যা দেখা দেয়। ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় সাজেকের দুর্গম অঞ্চলে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা দুর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একাত্তর/এসজে
