সাভার আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে এবারও পশুর চামড়া বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়। এতে পাশের ধলেশ্বরী নদীসহ দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
ট্যানারি মালিকরা বলছেন গেলো দুই দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ডাম্পিং এলাকা বন্ধ করে রেখেছিলো চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কর্তৃপক্ষ। যে কারণে বর্জ্য ফেলা নিয়েও বিপদে ছিলেন অনেকে।
বর্তমানে, চামড়া শিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধন করার ক্ষমতা আছে।
কিন্তু, কোরবানির ঈদে বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ঘনমিটারে। কারণ, সারা বছর যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয়, তার অর্ধেকই আসে ঈদুল আজহায়।
শনিবার ঈদের দ্বিতীয় দিনে সাভার ট্যানারি শিল্প এলাকায় দেখা গেছে কোরবানির পশুর চামড়া থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ, লেজ এবং কানসহ বর্জ্য আলাদা করতে করছেন শ্রমিকরা।
ট্যানারি থেকে এসব নিয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়। বিসিকের তৈরি করা ডাম্পিংয়ের নীতিমালা অনুসরণে করা হয়নি না আধুনিক কোনো পদ্ধতি।
ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় আটকে আছে ট্যানারির এবং বৃষ্টির পানি, বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বর্জ্য, এগুলো থেকে দূষণের পাশাপাশি ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
ডাম্পিংয়ের জন্য বরাদ্দ করা জায়গায় বাহিরেও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরী ঘেঁষে খোলা জায়গায়। পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন কর্মীরা বলছেন, নামের সাথে এই শিল্প নগরীর কোন মিলই নেই।
ট্যানারি মালিক সমিতি বলছে শিল্প নগরীর নিয়মের মধ্যে থেকেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিসিকের।
সমিতি বলছে ঈদের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন সাভারের ১৪৩ ট্যানারি থেকে অন্তত দশ মেট্রিক টন বর্জ্য আলাদা করা হয়।
কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার ফলে সৃষ্ট দূষণ থেকে মুক্তি পেতে দেশের চামড়া শিল্পকে সহায়তা করতে সাভার চামড়া শিল্প নগর স্থাপন করা হয়।
কিন্তু, ২০০৩ সালে চামড়া শিল্প নগর নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এটি এখনো পুরোপুরি কার্যকরী তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারেনি।
