কুড়িগ্রামে পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙছে নদীর পাড়। আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের মানুষের। এরই মধ্যে ধরলা নদীর ভাঙনে আড়াইশোর বেশি পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া নদীতে বিলীন হয়েছে আড়াইশো একরেরও বেশি ফসলি জমি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও সমাধান মিলছে না।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডল গ্রামের কৃষক বদিউজ্জামান। মাত্র তিন বছরে তার সাড়ে চার বিঘা আবাদি জমি ধরলা নদীর পেটে চলে গেছে। এখন ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে শেষ সম্বল ২০ শতকের ভিটাবাড়ি।
নদীভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে আড়াইশোর বেশি পরিবার। কৃষিজমি হারিয়ে পথে বসেছেন অনেক কৃষক। এরই মধ্যে পৈতৃক ভিটে ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গেছেন অনেকে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী জানান, এই ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজারসহ বহু স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তবুও নদীভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছে জেলার ১৬টি নদ-নদীর ২৬টি পয়েন্টের প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা। এসব এলাকায় কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দেশের সবচেয়ে বেশি নদনদী বেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় নদীভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ী ব্যবস্থার বদলে নদীর ড্রেজিং আর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
একাত্তর/জো
